মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্থিরতার পেছনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বিশ্লেষকেরা বলছেন— সংযুক্ত আরব আমিরাত, বা ইউএই, একাধিক দেশে এমন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিলিশিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে, যাদের কর্মকাণ্ড স্থানীয় রাজনীতি, নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইয়েমেন
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে ইউএই–সমর্থিত বলে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় ট্রানজিশনাল কাউন্সিল, বা এসটিসি।
এই গোষ্ঠীর সশস্ত্র শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন আইদারুস আল-জুবাইদি।
অভিযোগ রয়েছে, তারা দক্ষিণ ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ভেঙে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে ইয়েমেনের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সুদান
সুদানে ইউএই–সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে কুখ্যাত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)–এর বিরুদ্ধে।
এই বাহিনীর নেতা মুহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি হামিদতি নামে পরিচিত।
দারফুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের ওপর চালানো সহিংসতায় আরএসএফের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
বিশেষ করে আল-ফাশের এলাকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের জন্য এই বাহিনীকে দায়ী করা হচ্ছে।
লিবিয়া
লিবিয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের বাহিনী— লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (LNA)–কেও ইউএই–সমর্থিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চালিয়েছে হাফতারের বাহিনী।
ত্রাহুনা ও আশপাশের এলাকায় গণকবর আবিষ্কারসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
গাজা
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়ও ইউএইয়ের বিরুদ্ধে বিতর্কিত অভিযোগ উঠেছে।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইউএই গাজায় কয়েকটি সশস্ত্র অপরাধী চক্রকে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে।
এই গোষ্ঠীগুলো মানবিক সহায়তা লুট, ফিলিস্তিনিদের অপহরণ এবং ইসরায়েলি দখলদার শক্তির স্বার্থে প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদের মধ্যে গাদ্দার হিসেবে পরিচিত আবু শাবাব ও আল-আস্তল নামের কয়েকটি গোষ্ঠীর নাম আলোচনায় এসেছে।
আবু শাবাব সম্প্রতি নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন, সুদান, লিবিয়া ও গাজা—এই চারটি অঞ্চলে অন্তত চারটি প্রধান সশস্ত্র গোষ্ঠী বা মিলিশিয়ার সঙ্গে ইউএইয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত।
ইউএই এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করলেও, মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষকদের মতে, এসব সমর্থন আরব ও আফ্রিকান অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত করছে এবং মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে গিয়ে ইউএই কি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাকে আরও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?
এনএ/
