আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ >>
দেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে চলমান বার্ষিক পরীক্ষার মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছে রাজধানীর মুহাম্মদপুরে অবস্থিত কওমি মাদরাসা জামি’আ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে একটি প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করায় প্রশংসায় ভাসছে প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে জামি’আ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদীস মুফতী শামছুল আলম ৩৬ নিউজকে জানান, গত ২১ জানুয়ারি (বুধবার) মাদরাসাটিতে ফজিলত প্রথম বর্ষের তাফসীরুল জালালাইন (দ্বিতীয় খণ্ড) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেই শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়।
তিনি জানান, তাফসীরুল জালালাইন দ্বিতীয় খণ্ডের শিক্ষক হিসেবে তিনিই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেন। কেন প্রশ্নপত্রে শহীদ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ আনা হয়েছে—এ বিষয়ে মুফতী শামছুল আলম বলেন,
‘পরীক্ষায় জিহাদের বিধানসংক্রান্ত একটি প্রশ্ন ছিল। ইসলামে জিহাদের পথে যারা নিহত হন, তারা শহীদের মর্যাদা পান। পাশাপাশি ‘হুকমি শহীদ’ বলেও একটি শ্রেণি রয়েছে। শরিফ ওসমান হাদি যেহেতু দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়েছেন, তাই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের চিন্তায় আনার জন্য প্রশ্নে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।ৎ
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্য জ্ঞান নয়, বরং কুরআন-হাদীসের আলোকে সমসাময়িক ঘটনাকে বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা তৈরি করাই ছিল এই প্রশ্নের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, পরীক্ষার প্রশ্নটি ছিল—‘জিহাদের বিধান বিস্তারিত লেখো। অতঃপর ব্যাখ্যা করো—শরিফ ওসমান হাদি শহীদ কি না?’
প্রশ্নটির একটি স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই কওমি মাদরাসার এই উদ্যোগকে বাস্তবমুখী শিক্ষা, সচেতন চিন্তাভাবনা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন।
শিক্ষা ও ধর্মীয় অঙ্গনের একাংশের মতে, এমন প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে চিন্তা করতে সহায়তা করে, যা কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক দিককে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
হাআমা/
