রাফাহ সীমান্ত পুনরায় সচল করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় আগ্রাসনের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে নেতানিয়াহু বাহিনীর নারকীয় হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সহিংসতায় নতুন করে রক্তপাত ঘটিয়ে দখলদার প্রশাসন আবারও তাদের কঠোর অবস্থানের জানান দিল। বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল, পুলিশ স্থাপনা এবং আবাসিক ভবনগুলোতে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলাগুলো চালানো হয়।
গাজার চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে একটি তাঁবুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় তিন শিশুসহ কমপক্ষে সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে গাজা সিটির পরিস্থিতিও ছিল সমপরিমাণ ভয়াবহ; শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় রেমাল পাড়ার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিমান হামলায় তিন শিশুসহ আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া শেখ রাদওয়ান এলাকায় একটি পুলিশ স্থাপনায় বোমা বর্ষণ করলে সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা গাজার বিভিন্ন অংশে হামাসের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, অস্ত্রাগার এবং উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে একযোগে অভিযান চালিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এই কঠোর জবাব দেওয়া হচ্ছে। তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হামাস এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো এই গণহত্যা আড়াল করতেই ইসরাইল মিথ্যা অজুহাত দিচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
টিএইচএ/
