ভোটে পুরুষের সামনে পর্দানশীন নারীকে নেকাব খুলতে বাধ্য না করার আহ্বান

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় নারী ভোটারদের পরিচয় যাচাই নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভুয়া ভোট প্রতিরোধে পরিচয় নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হলেও কোনো পর্দানশীন নারী ভোটারকে পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব বা বোরকা খুলতে বাধ্য করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন
banner

ইসি সূত্রে জানা যায়, ভোটগ্রহণের সময় প্রতিটি কেন্দ্রেই ছবিসহ ভোটার তালিকা থাকবে এবং ব্যালট পেপার দেওয়ার আগে তালিকাভুক্ত ছবির সঙ্গে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখা হবে। পরিচয় নিশ্চিত না হলে ব্যালট পেপার দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী পোলিং অফিসার ও নারী আনসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “পর্দানশিন নারী ভোটার যদি পুরুষ কর্মকর্তার সামনে মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে নারী পোলিং অফিসারের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হবে। এতে তাদের পর্দা ভঙ্গ হবে না। কোনো কেন্দ্রে নারী কর্মকর্তা না থাকলে এবং কোনো নারী ভোটার মুখ দেখাতে না চাইলে তাকে ভোট দিতে বাধ্য করা যাবে না এবং ভোট না দেওয়ার কারণে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।”

ইসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে, ফলে ইভিএমের মতো আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না। তাই ছবিসহ ভোটার তালিকার মাধ্যমে পরিচয় যাচাই বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রুহুল আমীন সাদী বলেন, “ফিঙ্গারপ্রিন্টের যুগে এসে এই নিয়ম কেন? এটি পর্দানশীন নারীদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করবে।”

কাউসার লাবীব বলেন, “পর্দাশীল নারীদের ভোট থেকে বিরত রাখতে এই নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে। নেকাব খুলতে হলে আমি আমার স্ত্রী, বোন বা মাকে ভোটকেন্দ্রে পাঠাবো না।”
যাইনুল আবিদীন বলেন, “যদি মহিলা কর্মীদের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই না করা হয়, তাহলে পর্দানশীন নারীরা ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পাবে।”

তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, এই নিয়ম ঠিকভাবে প্রয়োগ হলে কোনো সমস্যা হবে না। প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা নাজমুল আলম বলেন, “মহিলাদের জন্য আলাদা মহিলা পোলিং অফিসার থাকবে। কোনো সমস্যা হবে না।”

এনআইডিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে শনাক্তকরণ পদ্ধতি চালুর দাবিতে নারীদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।

আইন ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ভোটগ্রহণের সময় নারী ভোটারের সম্মান, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, “যেখানে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নারী কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই সম্ভব, সেখানে নারীর পর্দা রক্ষা করা আবশ্যক। মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হলে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “বাংলাদেশের বহু নারী শরীয়াহর নির্দেশনা অনুযায়ী নেকাব পরিধান করেন। ভোটকেন্দ্রে তাদের মুখ দেখানোর প্রয়োজন হলে অবশ্যই নারী কর্মকর্তা থাকতে হবে। কোনো পুরুষের সামনে পর্দানশীন নারীকে নেকাব খুলতে বাধ্য করা যাবে না।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই নির্দেশনা নির্বাচনকালীন সময়ে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা—এই তিনটি বিষয়কে নতুন করে সামনে এনেছে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222