আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ >>
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৬টি আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৩৫টি এবং জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেতে পারে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনের গেজেট অনুযায়ী, বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, গণঅধিকার পরিষদ একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে ন্যূনতম ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়োজন। সে হিসাবে বিএনপি জোটের মোট আসন দাঁড়িয়েছে ২১১টি এবং জামায়াত জোটের ৭৪টি। এ পরিস্থিতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কোনো জোটে যুক্ত হলে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে স্বতন্ত্ররা জোটে যোগ দিলে আসন বণ্টনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের গেজেট হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত হয়েছে। এসব আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে কমপক্ষে ছয়টি নির্বাচিত আসন প্রয়োজন। তবে দলগুলো চাইলে জোটবদ্ধভাবে নারী আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে, এতে কোনো আইনি বাধা নেই।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এসব আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ আগামী মে মাসের মধ্যেই ইসিকে এ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ভোট দেবেন ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা। দল বা জোট তাদের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। তবে একাধিক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তরাই নির্বাচিত হবেন।
আইন অনুযায়ী, শপথ নেওয়া সংসদ সদস্যদের তথ্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ইসিতে পাঠানো হয়। সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দল বা জোটকে প্রার্থী তালিকা জমা দিতে হয়। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ইসি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দলভিত্তিক তালিকা চূড়ান্ত করে।
হাআমা/
