আতাউল্লাহ নাবহান মামদুহ >>
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ সত্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন দেশের দুই শীর্ষ ইসলামী নেতা। পৃথক বিবৃতিতে তারা বলেন, এত বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের অনেক প্রশ্ন আজও জাতির সামনে অনুত্তরিত রয়ে গেছে। প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে জাতির ক্ষত সারবে না।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ ও শোকাবহ ঘটনা। এ হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন মহলে এখনো ঘটনার পেছনের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের বিচার করতে হবে : পীর সাহেব চরমোনাই
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, একটি স্বাধীন দেশের রাজধানীতে এতোসংখ্যক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু অত্যন্ত বিরল ও বেদনাদায়ক ঘটনা। তিনি দাবি করেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কোনো নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত হয়নি। কারা এর পেছনে জড়িত ছিল এবং কোন স্বার্থে এমন বর্বরতা চালানো হয়েছে—তা আজও স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর অনেক বছর অতিবাহিত হয়েছে, আর সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। দ্রুততার সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তিনি পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খুব দ্রুত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ পর্দা উন্মোচন করতে হবে : আল্লামা মামুনুল হক
অন্যদিকে মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেন, পিলখানা ট্রাজেডি জাতির ইতিহাসে এক গভীর বেদনার অধ্যায়। এত বছর পরও ঘটনার অনেক দিক অস্পষ্ট থেকে যাওয়ায় জাতীয় চেতনায় দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, খুব দ্রুত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ পর্দা উন্মোচন করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ট্রাজেডি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা দেশবাসী দেখতে চায় না। শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের রক্তকে কেন্দ্র করে বিভাজন নয়; বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
বিবৃতির শেষে তিনি শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
হাআমা/
