আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
রমজান শুরু হতেই একটি কথিত ইসলামি দলের কিছু কর্মী দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা কওমি মাদরাসায় জাকাত না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। বিষয়টি ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা চলছে। প্রশ্ন উঠছে—হঠাৎ কেন এই সংগঠিত প্রচারণা? এর অন্তর্নিহিত লক্ষ্য কী?
দেশজুড়ে হাজার হাজার কওমি মাদরাসা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানেই পরিচালিত হয়। সাধারণ দান, সদকা ও জাকাত—সব মিলিয়ে বিশেষত রমজানে বিপুল পরিমাণ অর্থ এসব প্রতিষ্ঠানে যায়। দীর্ঘদিনের এই প্রক্রিয়া ঘিরে মাঝে-মধ্যে বিতর্ক তৈরি হলেও এবার তা কিছুটা সংগঠিত আকার পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমালোচকদের অভিযোগ—কওমি মাদরাসায় শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়, আর্থিক স্বচ্ছতার ঘাটতি আছে, জাকাত ফান্ড ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঘটে। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার দায় পুরো ব্যবস্থার ওপর চাপানো ঠিক নয়। অধিকাংশ মাদরাসায় স্থানীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে হিসাব-নিকাশ পরিচালিত হয় এবং বহু প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অডিটের আওতায় থাকে। কোথাও অনিয়ম থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়াই যুক্তিসঙ্গত—এমন মতও রয়েছে।
বিষিষ্ট গবেষক-লেখক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, কওমি মাদরাসাগুলোর ‘গোরাবা তহবিল’-এ জাকাতের অর্থ প্রদান করা উচিত এবং নির্মাণ, উন্নয়ন ও পরিচালন খাতে সাধারণ দানের অর্থ সহায়তা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, উপমহাদেশে গত দুই শতাব্দী ধরে মুসলমানদের দ্বীনি শিক্ষা ও ঈমানি চর্চার ভিত্তি গড়ে তুলেছে এসব প্রতিষ্ঠান। সরকারি সহায়তা ছাড়া জনগণের অর্থায়নে পরিচালিত এই মাদরাসাগুলো জাতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অর্থ সহায়তা বন্ধে প্রচারণা চালায়, তবে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। তবে একই সঙ্গে কোথাও কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি চোখে পড়লে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সমাজ গবেষক রুহুল আমীন সাদী মনে করেন, “কওমি মাদরাসায় জাকাত দেওয়া নাজায়েজ”—এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না; বরং বিভাজন বাড়াবে। তাঁর মতে, এতে দাতারা জাকাত দেওয়া বন্ধ করবেন না, কিন্তু কওমি অঙ্গনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এই বিতর্কের ভিডিও ও বক্তব্য ভবিষ্যতে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কওমি মাদরাসাগুলোতে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কুরআনে বর্ণিত আটটি খাতের আলোকে জাকাত বণ্টনের বিষয়টি পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট আলেমরা সমন্বয় করে থাকেন। তাঁর মতে, ইসলামী ঐক্য রক্ষায় সংযত ভাষা ও দূরদর্শিতা প্রয়োজন; আবেগপ্রসূত বক্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে।
হাআমা/
