আয়েশা সিদ্দিকাকে কোরআনের হাফেজা বানাতে চেয়েছিলেন মা-বাবা। ১৮ পারা পর্যন্ত মুখস্থ করেছিল সে। কিন্তু মা-বাবার স্বপ্ন পূরণের আগে আয়েশা মারা গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টায় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুরে পারিবারিক কবরস্থানে বড় চাচার পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।
খোকসা উপজেলার শোমসপুর এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ১৩ বছর বয়সি মেয়ে আয়েশা। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
পরিবার জানায়, দুর্ঘটনার সময় আয়েশা তার মা লিটা খাতুনের সঙ্গে বাসে বসা ছিল। বাবা গিয়াস উদ্দিন ছেলে আবুল কাশেম সাফিনকে নিয়ে ফেরিঘাটে নামেন। এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় বাস দুর্ঘটনা।
আয়েশার বাবা গিয়াস উদ্দিন জানান, নিজের চোখের সামনে মেয়ে ও স্ত্রীকে ডুবে যেতে দেখেন। স্ত্রী ভেসে উঠলেও মেয়েকে আর উদ্ধার করতে পারেননি। পরে গভীর রাতে ডুবুরিরা মৃত আয়শাকে উদ্ধার করে। রাতেই রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে তাদের মৃত মেয়ে আয়েশাকে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার শুরুতে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মুহূর্তের মধ্যে কত বাবা-মায়ের বুক খালি হয়ে গেল।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ১১ নারী, ৮ শিশু ও ৭ পুরুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
হাআমা/
