যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার প্রথম দিনেই লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে আরও ১ হাজার ১৬৫ জন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে ইসরায়েলে হামলা বন্ধ রাখলেও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী লেবাননজুড়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
লেবাননের জরুরি পরিষেবা সংস্থার (সিভিল ডিফেন্স) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজধানী বৈরুতে হামলায় ৯২ জন নিহত এবং ৭৪২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৬১ জন।
অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্যে নাবাতিয়েহ এলাকায় ২৮ জন, বালবেকে ১৮ জন এবং আলেই জেলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া টায়ার, সিদন ও হেরমেল এলাকাতেও কয়েকশ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।
লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি বলেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’।
তিনি বলেন, ‘আজকের এই অপরাধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির প্রতি চরম অবজ্ঞা। ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে সব নিয়ম লঙ্ঘন করছে।’
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলর দায় অস্বীকার করেছেন। ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির জানিয়েছেন, কোনো ধরনের আপস ছাড়াই হিজবুল্লাহর ওপর তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। ইসরায়েলের দাবি, এই যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, লেবাননের ক্ষেত্রে নয়।
হাআমা/
