ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেওয়া এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে দেশটির বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম আমির আলি মিরজাফারি। তার বিরুদ্ধে তেহরানের কোলহাক মসজিদে আগুন লাগানো এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আমির আলি মিরজাফারি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার একটি চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছিলেন। গত জানুয়ারিতে ইরানে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে তিনি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তার অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং মঙ্গলবার ভোরে তা কার্যকর করা হয়। উল্লেখ্য, ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট থেকে এই গণবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল। পরবর্তীতে এই বিক্ষোভ দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিক্ষোভ দমিত হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-এর দাবি অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ৬ হাজার ৪৮৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং ২২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে নাশকতার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার অংশ হিসেবে আজ মিরজাফারির দণ্ড কার্যকর করা হলো।
টিএইচএ/
