৩৬ নিউজ ডেস্ক:: পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসনের দাবি চলমান থাকলেও গ্রাহকসেবা ও সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় উদ্যোগে সহায়তা করতে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ কর্মসূচির আওতায় আগামী ১৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন তারা।
শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপবিএ) দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির ১১ জুন অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাপবিএ জানায়, দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে জাতীয় সেবায় অতিরিক্ত প্রায় ৭ লাখ ৮২ হাজার কর্মঘণ্টা যুক্ত হবে বলে আশা করছে সংগঠনটি।
সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ব্যবহার করা হবে গ্রামীণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, বকেয়া বিল আদায় জোরদার করা, মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি এবং সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার কাজে।
একই সঙ্গে বাপবিএ নেতারা জানান, আরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে ২০২৪ সালের শুরু থেকে তারা বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে আসছেন। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক কমিটি গঠন এবং সুপারিশ প্রণয়ন করা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন এখনো হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্দোলনের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাগুলো থেকে আদালত ইতোমধ্যে অব্যাহতি দিয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরোপিত সব শাস্তি প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেয় এবং ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চাকরিচ্যুত ৪৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালের নির্দেশ জারি করে। তবে এসব সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি বলে দাবি সংগঠনটির।
বাপবিএ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারিশ ও নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, চলমান সমস্যার দ্রুত ও ন্যায্য সমাধান হলে গ্রামীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়বে এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত হবে।
হাআমা/
