সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত নিয়ে সংসদে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

by Abid vs36

দেশের বেসরকারি খাতে সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর গ্রাহকরা কবে এবং কীভাবে তাদের আমানতের টাকা ফেরত পাবেন, তা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একাধিক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে এই বিষয়ে সরকারের নানা পদক্ষেপ ও অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়া, কথিত ‘হেয়ারকাট’ নীতি, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

বিজ্ঞাপন
banner

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানান, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি (এক্সমিক ব্যাংক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫-এর আওতায় নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়া এই পাঁচ ব্যাংকের যাবতীয় দায় ও সম্পদ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে হস্তান্তর করা হয়েছে। গেল ১ ডিসেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকটিকে চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করে, যার মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে ব্যাংকটির অনেক শাখার সাইনবোর্ডও পরিবর্তন করা হয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা চাহিদামতো আমানত ফিরে পাচ্ছেন না বলে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রেজল্যুশনের আওতায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী বর্তমানে ওই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে আরও যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে এবং প্রয়োজন হলে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, তারল্য সংকট মেটাতে ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংককে জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে মোট ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের ওপর আরোপিত কথিত ‘হেয়ারকাট’ বা দুই বছরের মুনাফা কেটে রাখার নীতি বাতিল করে সম্পূর্ণ মুনাফাসহ আমানত ফেরতের পরিকল্পনা আছে কিনা তা জানতে চান। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শরিয়াহ আইন অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংকিংয়ে ব্যাংক মুনাফা করলে আমানতকারীরা মুনাফা পাওয়ার অধিকারী হন। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো কোনো মুনাফা করতে না পারলেও আমানতকারীদের ৪ শতাংশ অর্থ ‘এহসান’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তবে ‘হেয়ারকাট’ প্রত্যাহার হবে কিনা বা গ্রাহকরা ভবিষ্যতে পুরো মুনাফা পাবেন কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা সময়সীমা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে আসেনি।

জামালপুর-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটির পরিচালক পর্ষদে ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের জন্য মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ব্যাংকটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সাংগঠনিক কাঠামো, চাকরি প্রবিধানমালা, আইটি, সিবিএস, জনবল ও শাখা একীভূতকরণ এবং কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার ও চিফ টেকনোলজি অফিসার নিয়োগের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

এদিকে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম দেউলিয়ার পথে থাকা ব্যাংকগুলো সচল করতে ‘লুট হওয়া অর্থ’ পুনরুদ্ধারে সরকারের আলাদা পরিকল্পনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী একটি বড় তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে খেলাপি হওয়া যে অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে, তা উদ্ধারে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংকগুলো বিশ্বের নয়টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করে ‘নো উইন নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের প্রভাবশালী ছয়টি কেইস তথা সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা এবং ওরিয়ন গ্রুপের পাচারকৃত সম্পদ নিয়ে এই আন্তর্জাতিক আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পরবর্তীতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222