ভারতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে শীর্ষ আলেমদের ঐকমত্য

by Masudul Kadir

বিশেষ প্রতিবেদক :: জমিয়তে উলামা হিন্দ ও দ্বীনী তালিমি বোর্ড আয়োজিত সম্মেলনে ভারতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে ঐকমত্য হয়েছেন আলেমগণ। তারা বলেন, ভারতে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কাউকে একা ছেড়ে দেওয়া চলবে না। নিজের ঈমান রক্ষার জন্যই অন্যের ঈমানের ফিকির করত হবে।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) জমিয়তে উলামা হিন্দ ও দ্বীনী তালিমি বোর্ড আয়োজিত সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বিজ্ঞাপন
banner

দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেন, এখানে বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আগত মহোদয়গণ একত্র করার উদ্দেশ্য হল, বোর্ড একটি বিভাগ, একে অপরের সহযোগিতা পেলে কাজ এগিয়ে যাবে। এ সংগঠন একটি প্রদেশের শক্তি। এটি অন্যান্য প্রদেশের জন্য এক টি দৃষ্টান্ত হবে, তাই পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে এই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

মাদরাসা কার্যক্রমকে বিস্তৃত করতে আমাদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে মন্তব্য করেন জমিয়তে উলামা হিন্দ সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানী। তিনি বলেন, মিল্লাতে ইসলামিয়াকে সব ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। একটি জটিল সময় এখন বিরাজ করছে। এসময় কাউকে একা ফেলে রাখা যাবে না। একটু হেলা করলে ক্ষতিটা আমাদের প্রজন্মের কাছে চলে যাবে। প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, হ্যাঁ, এটাই সত্য, আমরা যদি অন্যের ঈমান বাঁচানোর ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হই, তাহলে তার অনিবার্য ফলাফল হবে আমাদের ঈমান রক্ষা হবে, অন্যথায় আমরা ঈমান নিশ্চিত করতে পারব না।

মাওলানা মাহমুদ মাদানী এ ব্যাপারে জোর দিয়ে মজলিসের সকল অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সব দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এবং তাদের মানুষের ঈমান সুরক্ষা আন্দোলন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী ও কুরআন তেলাওয়া করেন মুফতি আফফান মনসুরপুরী।

অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন,মাওলানা মুফতি সালমান মনসুরপুরী, জমিয়ত ওলামা হিন্দের সভাপতি হযরত মাওলানা সৈয়দ মাহমুদ আসাদ মাদানী এবং মুফতি সৈয়দ আফফান মনসুরপুরী। সভায় ভারতের প্রাদেশিক কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলগণ উপস্থিত থেকে শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রদেশের দাবিগুলো শোনা হয়। প্রতিটি দাবি পূর্ণ বিবেচনা ও আলোচনা করা হয়, চাহিদা পূরণের ধারা বাস্তবায়ন করা হয়, পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা পর্ষদের আরো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। বিবেচনা প্রসঙ্গে প্রতিটি প্রদেশের প্রধান কর্তৃক পৃথক পৃথকভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। আর সমস্যার কথা শুনানো হয়, প্রাদেশিক সভাপতিগণ সমস্যা সমাধানের দাবি উত্থাপন করেন। সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোকপাত করেন দায়িত্বশীলগণ। এসব সমস্যা সমাধানে সভাপতি তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন, যাতে এসব সমস্যার সমাধান হবে।

দ্বীনী তালিমি বোর্ডের মজলিসের সময় বিভিন্ন বিষয় যেমন সহকারী নিয়োগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন সদস্য নির্বাচন, জমিয়ত বুক ডিপো থেকে বাক্য বই সরবরাহ, বিভিন্ন ভাষায় সিলেবাস অনুবাদ, উর্দু ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যে ইসলামী শিক্ষা নির্বাচন, জমিয়ত বুক ডিপো শাখা অথবা গ্রন্থাগার ব্যবস্থা, যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের দ্বারা উপস্থাপনা যেমন স্কুল টিউশনি ব্যবস্থা, শিক্ষকদের পাঠদান এবং ধর্মীয় সীমার মধ্যে থেকে খেলাধুলায় অংশ নেওয়া, যা দায়িত্বশীলগণ অনুমোদন করেন। কিছু পরামর্শ অনুমোদন বিবেচনা করার জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222