যাত্রাবাড়ি বড় মাদরাসার ইংরেজি শিক্ষকের ভালোবাসায় আপ্লুত শিক্ষার্থীরা

by Nur Alam Khan

>>তানবিরুল হক আবিদ

ইট-পাথরের ব্যস্ত এই শহরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এখন যেন অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। তবে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া (যাত্রাবাড়ি বড় মাদরাসা)-এর ইফতা, তাফসির ও উলূমুল হাদিস বিভাগের ইংরেজি শিক্ষক নজরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন
banner

দীর্ঘ দুই যুগ ধরে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখাচ্ছেন তিনি। তার পড়ানোর ধরণ, উচ্চারণভঙ্গি ও উপস্থাপনায় তিনি শিক্ষার্থীদের মন জয় করেছেন। গত বুধবার ছিল চলতি শিক্ষাবর্ষে তার শেষ ক্লাস। এ আবেগঘন মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি প্রায় ষাটজন ছাত্রকে নিজ বাড়িতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা কুরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে নান্দনিক ও বরকতময় করে তোলেন। এরপর প্রিয় শিক্ষকের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে তাকে সম্মানিত করেন। আবেগঘন কণ্ঠে স্যার নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি দুই যুগ ধরে শিক্ষকতা করছি, কিন্তু তোমাদের মতো শিখতে আগ্রহী ব্যাচ আর পাইনি। এ বছর আনুষ্ঠানিকভাবে তোমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হবে। জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছো তোমরা। যেখানেই যাও, ইসলামের প্রতিটি শক্তিধর জায়গার সঙ্গে লেগে থেকো। তোমরা ইংরেজি ভাষা শিখেছ, যা তোমাদের বিশ্ব দরবারে পথপ্রদর্শক। বিধর্মীদের গবেষণাপত্র পড়বে, তাদের চিন্তা-ভাবনা বুঝবে এবং প্রতিপক্ষের জবাব প্রস্তুত রাখবে। ইংরেজিকে ইসলাম প্রচারের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।”

নৈশভোজ শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার নিজস্ব ছাদবাগানও ঘুরে দেখান এবং বিভিন্ন গাছের গুণাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে জানান।

এক শিক্ষার্থী সাব্বির আহমদ বলেন, “স্যার আমাদের হাতে-কলমে ইংরেজি শিখিয়েছেন। তিনি আরবি পরিভাষার সাথে মিলিয়ে ইংরেজি ব্যাকরণ পড়িয়েছেন। এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। আজকের পর আর তার ক্লাস করতে পারবো না সেটা ভেবে খারাপ লাগছে।”

১৯৭৩ সালে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে জন্ম নেওয়া নজরুল ইসলামের শেকড় কুমিল্লার দেবিদ্বারে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে রসায়নে অনার্স সম্পন্ন করেন এবং এরপর থেকে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। তার নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আধুনিক পদ্ধতিতে পড়ানোর মানসিকতা মাদরাসার ইংরেজি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন— নজরুল স্যারের মতো শিক্ষকই তাদের জীবনে ইসলামী চেতনা ও আধুনিক জ্ঞানকে একসূত্রে গাঁথার প্রেরণা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, “এমন আন্তরিক শিক্ষক ও সচেতন শিক্ষার্থী থাকলে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়ার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।”

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222