মহান আল্লাহর শানে জঘন্য ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে ধর্ম অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় জুলাই বিপ্লবে বিশেষ অবদান রাখা সংগঠন ‘সাধারণ আলেমসমাজ’ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন—এটি শুধু ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং বাংলাদেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয়ে নির্মম আঘাত।
মূল অপরাধ আড়াল করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ
আলেমসমাজ অভিযোগ করেছেন, এই সুস্পষ্ট ধর্ম অবমাননার ঘটনাকে আড়াল করতে কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে বিষয়টিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। মিডিয়ার একটি অংশ ‘কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার’ ধরনের শিরোনাম ব্যবহার করে মূল অপরাধকে লঘু করে দেখানোর অপচেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও ঘটনাটিকে ‘সংস্কৃতি’, ‘শিল্পীর স্বাধীনতা’ বা ‘বাকস্বাধীনতা’ হিসেবে প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সমর্থকদের ‘ভিক্টিম কার্ড’ ব্যবহারের চেষ্টাকেও আলেমসমাজ নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ—কিছু প্রভাবশালী মিডিয়া ও গোষ্ঠীও এ ধরনের অপপ্রচারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখছে, যা ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
আইন হাতে নেওয়া সমর্থন নয়, তবে অপরাধীর দ্রুত বিচার দাবি
সাধারণ আলেমসমাজ জানায়, তারা কখনোই আইন হাতে নেওয়ার প্রবণতাকে সমর্থন করেন না। কোথাও বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে, সেটি রাষ্ট্রীয় সুশাসনের ঘাটতির ফল। তাদের দাবি—রাষ্ট্রের উচিত দ্রুত, কঠোর এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। অপরাধীকে রক্ষা করা, দোষ লঘু করা কিংবা ধর্মপ্রাণ মানুষের ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভকে উল্টো দোষারোপ করাকে তারা ন্যায়বিচার থেকে সরে আসা বলে চিহ্নিত করেছেন।
রাষ্ট্রের প্রতি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান
আলেমসমাজ রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায়—কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর চাপ উপেক্ষা করে মহান আল্লাহর শানে জঘন্য শব্দ ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, এই স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা বন্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
তাদের মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই ঘটনার সঠিক ও কঠোর বিচারই এখন সময়ের দাবি।
হাআমা/
