বাউলশিল্পীদের আধ্যাত্মিকতার নামে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামবিরোধী অপপ্রচার, খোদাদ্রোহী বক্তব্য ও ধর্মীয় অনুভূতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি ও ঢাকা গাউসিয়া মার্কেট জামে মসজিদের খতীব মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহ্ইয়া বলেছেন— “ধর্মের অপব্যাখ্যা ও নাস্তিকতার সাফাই গাওয়া কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
সম্প্রতি বাউলশিল্পী আবুল সরকারের প্রকাশ্য নাস্তিকতাকে সমর্থন এবং ইসলাম ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কথিত বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মাজহার–এর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর ২০২৫ ঈ.) খুলনার মারকাযুল উলূম মাদরাসা মিলনায়তনে “জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশ” খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহ্ইয়া বলেন, `নাস্তিকতা ও ধর্মবিদ্বেষ প্রচারের পক্ষে দাঁড়িয়ে ফরহাদ মাজহার শুধু আইন লঙ্ঘনই করেননি, বরং দেশের কোটি মুসলমানের অনুভূতিকে উপহাস করেছেন। সংবিধানের প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার অপব্যবহার করে ইসলামকে হেয় করার যে দুঃসাহস তিনি দেখাচ্ছেন, তা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া বন্ধ হবে না।”
তিনি আরও বলেন, `বাউলশিল্পী আবুল সরকারের নাস্তিকতাকে ধর্মীয় যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশ এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান—`ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশব্যাপী ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকার পরিচয় দিতে হবে।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে মুফতী বলেন,“ধর্ম, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে—এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি আরও জানান, জাতীয় ইমাম পরিষদ ভবিষ্যতেও ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ইমাম পরিষদ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি মুফতী জাকির হুসাইন এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারী মুফতী রকিব উদ্দিন।
এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন—মুফতী মানযুর আহমাদ, মুফতী শফিকুল ইসলাম, মুফতী জুনাইদ আহমাদ, মুফতী সৈয়দ খলিলুল্লাহ, মুফতী মুঈনুল ইসলাম, মুফতী হুমায়ূন কবীর, মুফতী আবদুল্লাহ মুখতার, মুফতী আবদুল মালেক, মুফতী নাজিম উদ্দিন, এবং বিভিন্ন থানার প্রতিনিধি, ইমাম, খতীব ও দায়িত্বশীলগণ।
হাআমা/
