কক্সবাজারের কলাতলীতে নবনির্মিত একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুর রহিম (৩৯)। এর আগে গত রোববার (১ মার্চ) দুপুরে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিএনজি অটোরিকশাচালক আবু তাহের। এ ঘটনায় পাম্পের মালিক নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন ও অনিরাপদভাবে পাম্প পরিচালনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর।
নিহত আব্দুর রহিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে কলাতলীর ওই এলপিজি স্টেশনে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে আব্দুর রহিম ও আবু তাহেরসহ মোট ১০ জন দগ্ধ হন। আব্দুর রহিম পাম্পসংলগ্ন একটি গ্যারেজের মালিক ছিলেন। আগুনের লেলিহান শিখায় তার গ্যারেজসহ চারটি জিপ গাড়ি ভস্মীভূত হয়। ঘটনার সময় গ্যারেজে অবস্থানকালে আবু তাহেরের শরীরের ৯০ শতাংশ এবং আব্দুর রহিমের ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা পাঠানো হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এদিকে ঘটনার পর থেকে পাম্প মালিক নুরুল আলম পলাতক রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় গত রোববার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, পাম্পটি পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমোদন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র কিংবা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কোনো লাইসেন্স নেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং নিরাপত্তা মান না মেনে জনবহুল এলাকায় এই পাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন জানান, বিস্ফোরক আইন এবং দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারাসহ বিভিন্ন গুরুতর ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাম্পের আশপাশের প্রায় ৩০টি গাড়ি, ৮টি বাড়ি ও বেশ কিছু স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বর্তমানে এই ঘটনায় দগ্ধ আরও কয়েকজন চট্টগ্রাম ও ঢাকার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
টিএইচএ/
