পশ্চিম ইরাকের আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী একটি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (১৪ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে প্রাথমিক তথ্যে চারজন নিহতের কথা জানানো হলেও পরে তল্লাশি চালিয়ে ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদন মতে, গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিধ্বস্ত হওয়া বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমানটি কোনো শত্রু পক্ষের হামলা বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নয়, বরং উড্ডয়নরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন জানান, নিহত সেনারা একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। নিহতদের পরিচয় এখনও গোপন রাখা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে চলমান সংঘাতের ১৫তম দিনে এসে মোট নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে এবং আহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪০ জন। এদিকে ইরানের খার্গ দ্বীপে গত রাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ফ্রন্টেও অস্থিরতা তীব্র হচ্ছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১০৩ জনই শিশু। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং বিপুল প্রাণহানির প্রেক্ষিতে নিজ সরকারের অভ্যন্তরেই প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ডেভিড সাক্স সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে পরামর্শ দিয়েছেন। জনমত ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে যুদ্ধ বন্ধের এই প্রকাশ্য দাবিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
টিএইচএ/
