দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি পর্যায়ে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের নিয়মিত বেতনের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে নিজ কার্যালয়ে এই বিশেষ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক যুগের সূচনা হলো বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১২৯ জন কৃতি ক্রীড়াবিদকে বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমেই তারা নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা ভোগ করবেন। বেতনের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই স্থায়ী বেতন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সরকার নির্ধারিত এই বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্রীড়াবিদ এই বেতনের আওতায় আসবেন, তাদের প্রতি চার মাস অন্তর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে তারা এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন। তবে মূল্যায়নে পারফরম্যান্সে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদ বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের মধ্যে নিয়মিত অনুশীলনের ধারা বজায় রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে তালিকার অন্তর্ভুক্ত সবার জন্য সমান বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই বেতনের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কত হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আর্থিক অংকের ঘোষণার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অচিরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অর্থের পরিমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন। দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতেই সরকারের এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ।
টিএইচএ/
