প্রায় দুই দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জনপ্রিয়তা নেমে গিয়েছিল প্রায় ৩০ শতাংশে। সে সময় তার জনপ্রিয়তা কমার প্রধান কারণ ছিল ইরাক যুদ্ধ। দীর্ঘ সময় পর আবার একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছে বিশ্ব। ২০২৬ সালে এসে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়ও বড় ধরনের ধস নেমেছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো ইরান যুদ্ধ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত তিনটি নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মধ্য-৩০ শতাংশের ঘরে। রয়টার্স-ইপসোস পরিচালিত জরিপে তার সমর্থন ৩৬ শতাংশ, স্ট্রেংথ ইন নাম্বার ভেরাসাইট জরিপে ৩৫ শতাংশ এবং এপি-এনওআরসির জরিপে ৩৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। এর আগে এনবিসি নিউজের এক জরিপে ট্রাম্পের সমর্থন ৩৭ শতাংশে নেমে আসে, যা তার জনপ্রিয়তার সর্বনিম্ন পর্যায় ছিল তখন।
ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাসে ফের ব্যর্থ সিনেটট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাসে ফের ব্যর্থ সিনেট
গত এক মাসে পরিচালিত নয়টি মানসম্মত জরিপের মধ্যে আটটিতেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩০ শতাংশের ঘরে অবস্থান করেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ফক্স নিউজের জরিপ, যেখানে তার সমর্থন ৪১ শতাংশ দেখানো হয়। তবে সেটিও ২০১৭ সালের পর সর্বনিম্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতীতের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলার পর তার জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই সময়গুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য জরিপের গড় হিসাব নিয়ে তৈরি সিএনএনের ‘পোল অব পোলস’-এ দেখা গেছে, ট্রাম্পকে বর্তমানে ৬২ শতাংশ মানুষ সমর্থন করে না।
ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
২০১৭ সালের জরিপগুলোতে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কম থাকলেও বর্তমানের থেকে বেশি ছিল। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে তা ছিল ৬৩ শতাংশ, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ৬১ শতাংশ এবং রয়টার্স-ইপসোস জরিপে ৬০ শতাংশ।
একইভাবে, ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে হামলার পর তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। তখন সিএনএন জরিপে ৬২ শতাংশ, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় জরিপে ৬১ শতাংশ এবং ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজের জরিপে ৬০ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে অপছন্দ করার কথা জানায়।
বর্তমান জরিপগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশিসংখ্যক আমেরিকান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আরো উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তার দ্বিতীয় মেয়াদে জনসমর্থনের ধারা ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী।
হাআমা/
