রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সিটিজেনস ফোরাম বাংলাদেশ (সিএসবি) আয়োজিত ‘ফলস ন্যারেটিভস, প্রপাগান্ডা অ্যান্ড ডিসইউনিটি : থ্রেটস টু স্ট্যাবিলিটি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ইউনিটি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা অভিমত প্রকাশ করেন যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরস্পরবিরোধী ভিত্তিহীন বয়ান, প্রপাগান্ডা সমাজে অনৈক্য সৃষ্টি করছে। তাঁরা বলেন, ভুয়া ও ভিত্তিহীন সংবাদের ছড়াছড়ির কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সামাজিক ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরাজিত মহল তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের কাজ করছে বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়। জাতিকে বিভাজিত করার এই অপচেষ্টা রোধের জন্য সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই সঙ্গে নৈতিক শিক্ষা বিস্তারের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক শিক্ষা বিস্তারের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়, ফলস ন্যারেটিভ বন্ধ করার জন্য শুধু আইন প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং ট্রু ন্যারেটিভ প্রয়োজন। অর্থাৎ সমাজে যদি সত্য প্রচারিত হয়, তাহলে মিথ্যা এমনিতেই দূরীভূত হবে।
সিএসবি আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত সহয়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। আর সে কারণেই দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের জাঁতাকল থেকে জাতি মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে।
মানুষ তার বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে দেশে নানাভাবে বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। গুম-খুনের ভয়ে সাংবাদিকরা ঠিকভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না। পত্রিকাগুলোতে এক ধরনের ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ আরোপ করা হয়েছিল। পত্রিকাগুলো এখন স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারছে।
সাংবাদিকরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষিত হচ্ছে না। স্বাধীনতা অর্থ স্বেচ্ছাচারিতা নয়। স্বাধীনতা অর্থ হচ্ছে স্ব-আরোপিত দায়িত্ববোধ। স্বাধীনতার নামে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ভুল সংবাদের কারণে ব্যক্তি হতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত। জাতীয় স্বার্থ ও ঐক্য বিনষ্ট করতে পারে এমন কিছু করার নাম স্বাধীনতা নয়। কিন্তু আমরা অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, এক শ্রেণির সংবাদপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করেই এমন সব সংবাদ প্রকাশ করছে, যা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করছে।
সংবাদপত্রকে একটি দেশের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ। সম্মুখে দৃশ্যমান ছবি যেমন হুবহু আয়নায় প্রতিবিম্বিত হয়, তেমনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে একটি দেশের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে। দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠতে পারে। আবার দায়িত্বহীন সংবাদপত্রের কারণে একটি দেশের স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে। জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হতে পারে। তাই সংবাদপত্রকে প্রতিকূল পরিবেশেও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে কর্তব্য সম্পাদন করতে হয়। একজন সাংবাদিক যে রাজনৈতিক মতাদর্শই ধারণ করুন না কেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিফলন ঘটবে না, এটিই রীতি হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশের এক শ্রেণির সাংবাদিক আছেন, যাঁরা সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ফলে প্রকাশিত সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়। সমাজে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সামাজিক ঐক্য বিনষ্ট হয়। স্বীয় রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যের সন্ধান করা এবং তা পাঠককে জানানোই হচ্ছে একজন সাংবাদিকের কাজ। তিনি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করতে পারেন না। কিন্তু এক শ্রেণির সংবাদিকের আচরণ দেখলে মনে হয়, তাঁরা সাংবাদিকতার আড়ালে আসলে রাজনীতিচর্চা করেন। আমাদের দেশের বেশির ভাগ পত্রিকা করপোরেট হাউসের মালিকানাধীন। ফলে একজন সাংবাদিক চাইলেও তাঁর নিজস্ব ইচ্ছামতো সঠিক সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন না। তাঁদের মালিকের ইচ্ছায় চলতে হয়। সংবাদপত্র বা সাংবাদিকের স্বাধীনতা বলতে আমাদের দেশে মালিকের স্বাধীনতাকেই বোঝায়।
একজন সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে নির্মোহভাবে সত্যের অনুসন্ধান করা এবং তা পত্রিকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা। সামান্য ভুল বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা হলে তা সংশ্লিষ্ট মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। কয়েক বছরে একটি ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে এর উদ্যোক্তারা ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে বের করে নিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন। সেই সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের এক শ্রেণির সংবাদপত্র অবিরাম সংবাদ প্রকাশ করতে থাকে যে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকরা আতঙ্কিত হয়ে তাঁদের আমানত তুলে নিতে থাকেন। ফলে বেশির ভাগ ব্যাংক বিনিয়োগযোগ্য তহবিল সংকটে পতিত হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংবাদটি প্রকাশের আগে যদি ভালোভাবে যাচাই করতেন, তাহলে বুঝতে পারতেন বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা নেই। প্রথমত, সরকার কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হতে দেবে না। প্রয়োজনে অর্থ সহায়তা দিয়ে ব্যাংক টিকিয়ে রাখবে। স্বাধীনতার পর থেকে বিগত ৫৫ বছরে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়নি। কয়েকটি ব্যাংক মার্জার করা হয়েছে মাত্র। বিশ্বে দুই ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করা যায়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং এবং অন্যটি ইউনিট ব্যাংকিং। ইউনিট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দু-তিনটি শাখা নিয়ে একটি ব্যাংক স্থাপিত হয়। কোনো একটি বা দুটি শাখা ব্যাবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটি দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিট ব্যাংকিং চালু আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পৃথিবীর আর কোনো দেশে এত বেশিসংখ্যক ব্যাংক দেউলিয়া হয় না। ব্রিটেনে ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু আছে। সেখানে ব্যাংকের সংখ্যা খুব কম। তারা শত শত ব্রাঞ্চের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিছু শাখা ব্যাবসায়িকভাবে খারাপ করলেও পুরো ব্যাংকের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং সিস্টেম অনুসরণ করে থাকে। কাজেই আমাদের এখানে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছেপেছে—এই মর্মে বিভিন্ন পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট প্রকাশ করে, এটি নজিরবিহীন ঘটনা নয়। মাঝে মাঝেই তারা নতুন নোট ছাপে। কিন্তু সংবাদটি এমনভাবে পরিবেশন করা হয়, যেন বর্তমান সরকার মারাত্মক আর্থিক সংকট মেটানোর জন্য নতুন নোট ছেপেছে। আসলে ঘটনাটি তা নয়। প্রিন্ট মিডিয়ায় এমন অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা পাঠ করলে একজন পাঠক নিশ্চিতভাবেই বিভ্রান্ত হবেন।
প্রথাগত সংবাদপত্রগুলো তবু কিছুটা হলেও নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করে। কিন্তু ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ার দাপট প্রচণ্ডভাবে বেড়ে গেছে। তারা এমন সব সংবাদ প্রচার করে থাকে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। অনেক সময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্র হননের জন্য এমন সব সংবাদ প্রচার করা হয়, যার কোনো ন্যূনতম ভিত্তি থাকে না। অনেক সময় পুরনো ছবি সংযুক্ত করে এমন সংবাদ প্রচার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়। মফস্বল এলাকায় এক শ্রেণির যুবক নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তারা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে থাকে। এমনকি রাজধানীতে অনেক রাইড শেয়ার চালক তাদের মোটরসাইকেলের সামনে ‘প্রেস’ লিখে চলাচল করে থাকে।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সাংবাদিকরা জাতি গঠনে এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। আবার নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হলে একজন সাংবাদিক দেশ ও জাতির বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারেন। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে, তা সফল করার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। এরই মধ্যে জাতিকে বিভক্ত করার জন্য নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি পরিকল্পিত ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমেরই অংশ। বর্তমানে দেশের সংবাদপত্রগুলো স্বাধীনতা ভোগ করছে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্থ স্বেচ্ছাচারিতা নয়, এটি আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে।
কথায় বলে,বাংলাদেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে পারে। আর বিভক্ত হলে পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৯৫২ সালে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের মানুষ তাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ছিনিয়ে এনেছিল। ২০২৪ সালে শত শত ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছিল। কিন্তু একটি বিষয় অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করা গেছে, প্রতিটি সফল আন্দোলনের পর আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখতে আমরা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছি। ফলে আন্দোলনের মাধ্যমে গণ-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, তা আমরা হারিয়েছি। ফলে দেশ যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। একই ধরনের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদের বারবার আন্দোলন করতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে অনৈক্যের কারণে তারা চূড়ান্তভাবে সফলতা লাভ করতে পারেনি। প্রতিবারই আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণ-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তা ব্যর্থতার ধুলায় লুটিয়ে পড়ে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা বিনষ্ট করার জন্য একটি মহল নানাভাবে চেষ্টা করছে। এবার যদি আমরা সৃষ্ট ঐক্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হই, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। কাজেই ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যা দেশের মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
প্রথাগত সংবাদপত্রগুলো যাতে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশিত না হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাতে কোনো হার্ড নিউজ প্রচারিত না হয়, তা আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে। তবে আইনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বিভ্রান্তিকর সংবাদ দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া চলবে না। যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনা করেন, তাঁদের মনে রাখতে হবে, সামান্য ভিউ বাড়ানোর আশায় তাঁদের পরিবেশিত মিথ্যা সংবাদ সমাজে মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি হতে পারে। তাঁরাও বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁরা সমাজের বাইরের কেউ নন। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাঁদের পরিবেশিত সংবাদ বা সংবাদ ভাষ্য সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার দায়ভার তাঁদেরই নিতে হবে।
আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্রম সীমিতকরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যেতে পারে। কারো কাজে যদি সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তাহলে তা সর্বাবস্থায় পরিত্যাজ্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং তা ধরে রাখা একান্ত প্রয়োজন।
হাআমা/
