আইনের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল ও পরিবর্তনের দাবি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সম্পাদক পরিষদের

by hsnalmahmud@gmail.com

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের জন্য আইনের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল ও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

সম্পাদক পরিষদ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করে।

বিজ্ঞাপন
banner

বৈঠকে সম্পাদক পরিষদ জানায়, গণমাধ্যম বিষয়ক আইনগুলো অনেক পুরোনো এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এগুলো বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রের ফর্ম ‘বি’-তে প্রকাশকদের ঘোষণা ও স্বাক্ষর দিয়ে বলতে হয়, ‘আমি, এই মর্মে আরও ঘোষণা করিতেছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থের পরিপন্থী বা কোনো আপত্তিকর বিষয় আমার উক্ত পত্রিকায় প্রকাশে বিরত থাকিব এবং ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের সমুদয় নিয়মাবলি মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিব।’ এ ধারাটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অগণতান্ত্রিক চরিত্র রয়েছে। সম্পাদক পরিষদ এ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। বৈঠকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য গণমাধ্যম কমিশন গঠন অথবা প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আগামী জুন মাসের মধ্যে এ বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জুলাই মাসের মধ্যেই সরকার যেন একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারে, সে অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জোর দেন। এর প্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়ন ও গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায় এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে। বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের কয়েকজন সদস্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা জানিয়েছেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সম্পাদক পরিষদকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করবেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয়; বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করতে চায়। তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, শক্তিশালী গণমাধ্যম রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য অংশ এবং তাঁর সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কোষাধ্যক্ষ ও দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক এবং সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে জানান, গণমাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’। পরে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর জানান, গণতান্ত্রিক মিডিয়া গড়তে সম্মত হয়েছেন সরকার প্রধান। গণতান্ত্রিক আচরণ অব্যাহত থাকলে সরকারকে সহযোগিতা করবে সম্পাদক পরিষদ। সাংবাদিকের মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222