দেওবন্দের মসজিদে রশিদ নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের নতুন উসকানি

by Masudul Kadir

বিশেষ প্রতিবেদক: ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দ-এরমসজিদে রশিদের নিচে কথিত ‘শিব মন্দির’ থাকার দাবি তুলে নতুন করে বিতর্ক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। মসজিদের ১৪ ফুট নিচে শিবলিঙ্গ ও মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে দাবি করে অবিলম্বে সেখানে খননকাজ চালানোর দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক হিন্দুত্ববাদী নেতা প্রশাসনের সামনে দাঁড়িয়ে দাবি করছেন, “দারুল উলুম দেওবন্দের মসজিদের নিচে আমাদের শিব মন্দির রয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত সেখানে খননকাজ শুরু করা।”

বিজ্ঞাপন
banner

তিনি আরও বলেন, “খননের পর যদি কোনো মন্দির বা শিবলিঙ্গ না পাওয়া যায়, তাহলে আমাকে ফাঁসি দেওয়া হোক। আমি আত্মাহুতি দিতেও প্রস্তুত।” একই সঙ্গে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের হুমকিও দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর দেশ-বিদেশের মুসলিম সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মসজিদ ও ইসলামি স্থাপনাকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তাদের মতে, বাবরি মসজিদ ধ্বংস, জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং শাহী ইদগাহ মসজিদ-এর পর এবার দেওবন্দকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মুসলিম নেতাদের ভাষ্য, এসব ভিত্তিহীন দাবি ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা এবং মুসলিম ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার অংশ।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৬ সালের ৩১ মে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর মুসলিম শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে। মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনমুহাম্মদ কাসিম নানুতভি, হাজি সৈয়দ মুহাম্মদ আবিদ হুসাইনসহ উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমরা।

মাদরাসাটির প্রাথমিক পাঠদান শুরু হয়েছিল দেওবন্দের ঐতিহাসিক ‘ছাত্তা মসজিদে’, যেখানে একটি ডালিম গাছের নিচে একজন শিক্ষক ও একজন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হয়।

বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ‘মসজিদ-ই-রশিদ’ নামে পরিচিত। এটি রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহী-এর নামানুসারে নির্মিত। জানা যায়, আধুনিক এই বিশাল মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৮৬ সালের ১৪ এপ্রিল এবং প্রায় দুই দশক ধরে ধাপে ধাপে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়।

ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক নথিপত্র অনুযায়ী, মসজিদ ও মাদরাসার জমি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজস্ব মালিকানাধীন এবং পরিকল্পিতভাবেই সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সেখানে কোনো মন্দির বা অমুসলিম স্থাপনার অস্তিত্ব থাকার পক্ষে কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মুসলিম সংগঠনগুলো অবিলম্বে উসকানিমূলক বক্তব্যদাতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222