আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইউক্রেনের হামলায় পূর্ব ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে প্রাণহানির ঘটনায় পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শনিবার (২৩ মে) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরে রাতভর ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় রুশপন্থী প্রশাসন। এছাড়া আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা স্টারোবিলস্কে রাশিয়ার অভিজাত ‘রুবিকন’ ড্রোন ইউনিটের সদরদপ্তরে হামলা চালিয়েছে। যদিও সেটি একই ভবন কি না, সে বিষয়ে ইউক্রেন সরাসরি কিছু বলেনি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পুতিন বলেন, হামলার আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা, গোয়েন্দা কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ছিল না। তাই এটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বলা যায় না।
মস্কোর ক্রেমলিনে এক অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, ইউক্রেন তিন ধাপে ১৬টি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রুশ সামরিক বাহিনীকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আহত শিক্ষার্থী হিসেবে ১৯ বছর বয়সী ডায়ানা শভকুন নামের এক তরুণীর ছবি প্রচার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনের কংক্রিট ধসে তার মাথায় আঘাত লাগে। তবে নিহতদের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে শনিবার ভোরে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী নভোরোসিস্কে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, রুবিকন ইউনিট নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনেই তারা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি কিয়েভের।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির সদরদপ্তরে হামলায় প্রায় ১০০ রুশ সেনা হতাহত হয়েছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ করে আসছে। গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন শিশুসহ ২৪ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছিল ইউক্রেন।
