মক্কায় অবস্থিত ‘মক্কা ক্লক’ পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম ঘড়ি।পৃথিবীর বৃহত্তম এই ঘড়িটি আরব সময়সূচি অনুযায়ী চলে, যা গ্রিনিচ সময় থেকে তিন ঘণ্টা এগিয়ে। পবিত্র কাবার দক্ষিণ গেটের কাছাকাছি সাতটি বিশাল টাওয়ারের আবরাজ আল-বাইত কমপ্লেক্সের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে রয়্যাল মক্কা ক্লক টাওয়ার। এই টাওয়ারের ওপর বসানো হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঘড়ি ‘মক্কা ঘড়ি’।
আধুনিক এই সময়ে সময় জানার জন্য ঘড়ির প্রয়োজন হয় না তেমন কারো। তবে এক সময় নামাজ বা ইবাদতের সঠিক সময় জানা এতোটা সহজলভ্য ছিল না।তৎকালীন সময়ে হজযাত্রীদের নামাজের সঠিক সময় নির্ধারণে মক্কার একটি সরকারি ভবনের চূড়ায় ঘড়ি স্থাপন করেছিলেন সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা কিং আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আল সৌদ।
কিং আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আল সৌদের নির্দেশে ১৯৩৩ সালে (১৩৫২ হিজরি) মক্কায় স্থাপিত হয় প্রথম ঘড়ি। মসজিদুল হারামের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে সৌদি রাজবংশের দীর্ঘকালীন নিবেদনের এক অনন্য স্মারক এই ঘড়ি।
তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-হামদান এবং মক্কার মেয়র আব্বাস কাত্তানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই ঐতিহাসিক ঘড়ি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। জার্মানি থেকে আমদানি করা বিশালাকৃতির এই ঘড়ি তৎকালীন একটি সরকারি ভবনের ওপর প্রায় ৩০ মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছিল।
দুই পাশেই আলোকোজ্জ্বল ডায়াল থাকায় মসজিদুল হারাম, মাস’আ স্ট্রিট এবং আজিয়াদ স্ট্রিট থেকে স্পষ্ট দেখা যেত ঘড়িটি। মক্কার অধিবাসী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা হজযাত্রীদের নামাজের সঠিক সময় নির্ধারণে এই ঘড়িই ছিল সে সময়ের প্রধান মাধ্যম।
বর্তমানে এই ঐতিহাসিক ঘড়ির বিভিন্ন অংশ দুই পবিত্র মসজিদের স্থাপত্য প্রদর্শনীতে (এক্সজিবিশন অফ দ্য টু হোলি মস্ক আর্কিটেকচার) অত্যন্ত সযত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং হাজিদের সেবায় সৌদি আরবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে ঘড়িটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এনআর/
