সবজির বাজারে স্বস্তি

by Masudul Kadir

নিজস্ব প্রতিবেদক :: পবিত্র ঈদুল আজহার পর সবজির বাজারে স্বস্তি দেখা গেছে। মানুষ কম, এখনও রাজধানী ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা তাই কম। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও মাছ ও মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক পণ্যের দাম বাড়লেও এখন বাজারে সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম কমতে শুরু করেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন
banner

রাজাধানীর যাত্রাবাড়ীতে প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, কচুর চারা ৭০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকায়। এ ছাড়া লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

ঈদের আগের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

সবজি বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে পরিবহন ব্যস্ততা ও বাড়তি চাহিদার কারণে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এখন বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত সবজি আসতে শুরু করায় দাম কিছুটা কমেছে।

রাজধানীর শনিরআখড়া কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আমির হাসান বলেন, ঈদের আগে অনেক সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি ছিল। এখন সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কমেছে। আগামী সপ্তাহেও সরবরাহ ঠিক থাকলে আরও কিছু সবজির দাম কমতে পারে।

তবে মাছের বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। বাজারে চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২২০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ ৩৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, মাছের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেশি থাকায় দাম কমার সুযোগ কম।

ডিমের বাজারেও দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং দেশি ডিম ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গরুর মাংসের দাম আগের মতই ৮০০-৮৫০ টাকা, খাসির মাংসের দাম ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। তবে বিক্রেতারা বলছেন কোরবানির পরে মাংসের বেচাকেনা কম।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল কাসেম বলেন, ঈদের পর সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি লাগছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজি কিনতে বেশি খরচ হচ্ছিল। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি।

আরেক ক্রেতা রহিমা আক্তার বলেন, সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ খুব একটা কমেনি। মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমী সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের বাজারে স্বস্তি ফিরতে হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও নজরদারি প্রয়োজন।

ঈদের পর রাজধানীর বাজারে সবজির দামে যে স্বস্তি ফিরেছে, তা ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্য এখনও তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222