গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে অস্ত্র সমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছে হামাস। তবে গাজার রাস্তাঘাটে শুধু ফিলিস্তিনি পুলিশের অস্ত্রই প্রকাশ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। আল জাজিরাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান। তিনি বলেন, গাজার প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় কমিটির অধীন পুলিশ বাহিনীর অস্ত্র ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র প্রকাশ্যে দেখা যাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে হামাস তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করবে।
অস্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা হবে। হামাসের এ অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল কায়রো যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই বৈঠকে ফিলিস্তিনের আটটি প্রধান রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী অংশ নেবে। বৈঠকের লক্ষ্য হলো গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি অভিন্ন জাতীয় অবস্থান তৈরি করা। বদরান দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতির ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করেনি ইসরাইল। তিনি বলেন, প্রতিদিন ৬০০ ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বর্তমানে গাজায় ঢুকছে মাত্র ১৫০ থেকে ২৫০টি ট্রাক।
বিদ্যুৎ, হাসপাতাল ও জ্বালানি অবকাঠামোর অবস্থাও এখনও বিপর্যস্ত। এদিকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার শর্ত হিসেবে হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানিয়ে আসছে ইসরাইল। তবে জাতিসংঘে উপস্থাপিত একটি নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীকে তাদের অস্ত্র ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করতে হবে না। বরং ধাপে ধাপে অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হবে। এরপর সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ যাবে গাজার প্রশাসন পরিচালনাকারী জাতীয় কমিটির হাতে। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক উইসাম আফিফা অভিযোগ করেছেন, আলোচনার সময়কে কাজে লাগিয়ে গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করছে ইসরাইল।
তার দাবি, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তবে নতুন নতুন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে দেশটি। অন্যদিকে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম জানিয়েছেন, গাজার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা দায়িত্ব জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হামাস। রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকার পাশাপশি গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
হাআমা/
