২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘সাহসী’ ও ‘কনফিডেন্ট’ উল্লেখ করে এটিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এটি বাস্তবায়নের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস সরকারের আছে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ফ্যাসিস্টদের বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, গতকাল একজন সংসদ সদস্য এই বাজেটকে ‘ফ্যাসিস্টদের বাজেট’ বলেছেন, যার শক্ত বিরোধিতা করছি। যারা ১৭ বছর রাজপথে যুদ্ধ করেছে, যাদের নামে অসংখ্য মামলা ছিল এবং মাসের পর মাস জেল খেটেছেন, তাদের দেওয়া এই সাহসী ও কনফিডেন্ট বাজেটকে ছোট করা সমীচীন নয়। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলন কারো একপক্ষের ছিল না, এটি ছিল আমাদের সবার। যারা দীর্ঘ সময় ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জেল-জুলুম সহ্য করে আজ এই সংসদে এসেছেন, তাদের দেওয়া প্রথম বাজেটকে এমন বিশেষণে বিশেষায়িত করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০২৪ সালের ৪ জুলাই তৎকালীন সংসদ নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বর্তমান অর্থমন্ত্রীসহ আমরা একটি বৈঠকে বসেছিলাম। সেদিন সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, আমরা রাজপথে কোটা বিরোধী আন্দোলনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেব। তবে আমরা দলের নাম ব্যবহার করিনি যাতে তৎকালীন সরকারপক্ষ এটাকে দলীয়করণ করে দমিয়ে দেওয়ার সুযোগ না পায়। জুলাই আন্দোলনের স্পিরিটটা ছিল সম্মিলিত। এখানে নুরুল হক নূর ও জোনায়েদ সাকিসহ আমরা সবাই একসাথে রাজপথে ছিলাম এবং সেই স্পিরিট মহান সংসদেও ধরে রাখতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতের বাজেট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ খাতে ৪৬ হাজার ৭২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী তাদের ৯ম বা ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে বছরে বাড়তি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে, যা বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ও দেশের চেহারা পুরোপুরি বদলে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
টিএইচএ/
