ক্রীড়া ডেস্ক :: ব্রাজিলের বিদায়। কেউ মেনে নিতে পারুক বা না পারুক। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের অকাল বিদায়ের পর তোপের মুখে পড়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম এই প্রস্থানকে অনেকেই আনচেলত্তি যুগের শেষ হিসেবে দেখছেন। তবে এই কঠিন ও বেদনাদায়ক মুহূর্তেও মোটেও ভেঙে পড়েননি ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। বরং ম্যাচ শেষে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই হার ব্রাজিলের রাজত্বের অবসান নয়, বরং এক নতুন ও শক্তিশালী চক্রের শুরু মাত্র।
ম্যাচ পরবর্তী অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে আবেগ ও যুক্তির মিশ্রণে নিজের মতামত তুলে ধরেন আনচেলত্তি, “যা ঘটেছে তাতে দলের সবাই ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছে, এটা স্বাভাবিক। আমি বলব না যে আমরা একটা চোখধাঁধানো বিশ্বকাপ কাটিয়েছি, তবে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। এমনকি আমার তো মনে হয় আজকের ম্যাচটা আমাদেরই জেতা উচিত ছিল, আমরাই জয় পাওয়ার যোগ্য দাবিদার ছিলাম।”
প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি মিস এবং দ্বিতীয়ার্ধে এরলিং হালান্ডের জোড়া গোল ব্রাজিলের কপাল পুড়িয়েছে। শেষ মুহূর্তে নেইমারের পেনাল্টি গোল কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, নরওয়ে ৬৬.৫ শতাংশ বল দখলে রেখে ৫টি অন-টার্গেট শট নিয়েছে, অন্যদিকে ব্রাজিল বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও মোট শটের দিক থেকে (১৪-৯) এগিয়ে ছিল।
মাত্র এক বছর আগে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া এই অভিজ্ঞ কোচ এক ম্যাচ হেরেই দীর্ঘমেয়াদি প্রজেক্ট থেকে সরে আসতে নারাজ। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সিবিএফ-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকা আনচেলত্তি তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি মনে করি না এটা কোনো কিছুর সমাপ্তি। এটা আসলে আমাদের নতুন এক সাইকেলের শুরু। এই স্কোয়াডে যে ধরনের ফুটবলাররা আছে, তাতে আজকের দিনের দুর্ঘটনা বাদ দিলে এই বিশ্বকাপের একদম শেষ পর্যন্ত লড়াই করার সামর্থ্য ব্রাজিলের ছিল।”
এই একটি ম্যাচ ব্রাজিলকে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও নেতিবাচক ইতিহাসের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নিউক্যাসলের হয়ে গত মরসুমে সব পেনাল্টি সফলভাবে জালে পাঠানো ব্রুনো গিমারায়েস দেশের হয়ে প্রথম পেনাল্টি মিস করলেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে কিংবদন্তি জিকোর পেনাল্টি মিসের পর (টাইব্রেকার বাদে) মূল ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে পেনাল্টি মিস করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন ব্রুনো।
২০১৪ সালে জার্মানির কাছে ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়া সেই সেমিফাইনালে টনি ক্রুস ও আন্দ্রে শুরলের পর এরলিং হালান্ডই প্রথম ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপের এক ম্যাচে ব্রাজিলের জালে জোড়া গোল করার দুঃস্বপ্ন উপহার দিলেন। এই হারের ফলে ২০০২ সালের পর ইউরোপের দেশের বিরুদ্ধে নকআউটে ব্রাজিলের টানা হারের রেকর্ড এখন দাঁড়াল ৭-এ। সেই সাথে ২০০২ সালের পর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ খরা এখন দীর্ঘায়িত হয়ে কমপক্ষে ২৮ বছরে রূপ নেওয়া নিশ্চিত হলো।
পরাজয়ের স্বাদকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর বার্তা দিয়ে আনচেলত্তি বলেন, “ফুটবল তথা খেলাধুলায় এমনটা হতেই পারে। আপনাকে এই দুঃখ ও পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ হজম করতেই হবে। আমি এই ধরনের পরিস্থিতির সাথে খুব ভালোভাবে অভ্যস্ত এবং আমরা এটা শক্ত হাতে সামাল দেব। এই বেদনাকে আমরা আগামী দিনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করব।”
নেইমার জুনিয়রের আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর রাতে কোচের এই দৃঢ়চেতা মনোভাব সেলেসাও ভক্তদের মনে কিছুটা হলেও আশার আলো জোগাবে, নাকি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে, তা সময়ই বলে দেবে।
