ক্রীড়া ডেস্ক :: মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে নরওয়ে। আর এই ঐতিহাসিক রূপকথার মহানায়ক এরলিং হালান্ড মাঠের ফুটবল কাঁপানোর পর এবার ঝড় তুললেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ম্যাচ শেষ হতেই ব্রাজিলের মতো ফুটবল পরাশক্তিকে খোঁচা দিতে একটুও দ্বিধা করেননি এই নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন। ম্যাচ জয়ের পর ড্রেসিংরুমে উদযাপনের একটি ছবি পোস্ট করে হালান্ড খুব সাধারণ কিন্তু তীব্র অর্থবহ একটি ক্যাপশন লিখেছেন, “Well, well, well…” (আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা…)
এই তিনটি শব্দের ট্রল যে সরাসরি সাম্বা বয়দের উদ্দেশ্যেই ছোঁড়া হয়েছে, তা বুঝতে ফুটবল ভক্তদের বাকি নেই। এর মাধ্যমে মাঠের বাইরে ২৪ বছরের ইউরোপীয় জুজু নিয়ে হওয়া আলোচনাকেও যেন মাঠের ভেতরে জবাব দিলেন হালান্ড।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল নরওয়ে। অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগাহেস এবং মার্কিনহোসের কড়া পাহারায় কার্যত বোতলবন্দী ছিলেন হালান্ড। কিন্তু বিশ্বসেরা স্ট্রাইকাররা যে এক সেকেন্ডের সুযোগেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন, তা-ই প্রমাণ করলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র দুটি পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিলেন হালান্ড এবং দুটিতেই দেখালেন তাঁর চেনা রুদ্ররূপ। ৭৯ মিনিটে শেল্ডেরুপের ক্রস থেকে বাতাসে ভেসে গ্যাব্রিয়েলকে পরাস্ত করে এক দুর্দান্ত হেডে ভাঙেন ডেডলক। পরে ৯০ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে এক বাঁ পায়ের জোরালো ও নিখুঁত কোণাকুণি শটে অ্যালিসন বেকারকে পরাস্ত করে নরওয়েকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে।
ম্যাচ শেষের পর হালান্ড তাঁর আরেকটি পোস্টে নরওয়েজিয়ান ফুটবলের এই দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান নিয়েও আবেগ প্রকাশ করেন। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চের নকআউট তো বটেই, নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার শেষ আটে পৌঁছাল ভাইকিংরা।
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো নরওয়ে দল এখন কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষের জন্য অপেক্ষা করছে। থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড অথবা টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দলের বিরুদ্ধে আগামী শনিবার মিয়ামির মাঠে সেমিফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে নামবে তারা।
