নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হচ্ছে খামেনিকে

by Abid vs36

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি ও তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই  আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তাঁর নিজ শহর মাশহাদে সমাহিত করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইরানের জনগণ। টানা কয়েক দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন পবিত্র শহরে অনুষ্ঠিত কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে বিদায় পর্ব শেষে আজ সন্ধ্যায় দেশের অন্যতম পবিত্র স্থান ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।

তবে সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার শেষবিদায়ের আবহ এবং কয়েক দিনব্যাপী শোকযাত্রার মধ্যেই সংঘাত আরো ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-যাতায়াতে হুমকির অভিযোগে ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যবর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে সতর্ক করেছেন, প্রণালীতে জাহাজে আক্রমণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

বিজ্ঞাপন
banner

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন। ওই হামলার মাধ্যমেই মূলত বর্তমান যুদ্ধের বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। দীর্ঘ পথ অতিক্রমের পর বুধবার প্রতিবেশী ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় অভূতপূর্ব লাখো মানুষের শোকযাত্রা শেষে খামেনির মরদেহ চূড়ান্ত দাফনের জন্য বিমানযোগে মাশহাদে আনা হয়।

মাশহাদের গভর্নর হাসান হোসেইনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে প্রায় দেড় কোটি মানুষের আগমন ঘটতে পারে। প্রথমে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইরাকের সীমান্ত ও ধর্মীয় প্রক্রিয়া শেষ হতে দেরি হওয়ায় সময় পিছিয়ে বেলা ২টায় তা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ১০ম শতাব্দীর ঐতিহাসিক ইমাম রেজার মাজারে একই কবরে তাঁর সঙ্গে হামলায় নিহত শিশু নাতনি, জামাতা, মেয়ে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ আদেলকে সমাহিত করা হবে।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন খামেনির ছেলে ও মনোনীত উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির দিকে। বাবার হত্যাকাণ্ডের দিন থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি। ধারণা করা হচ্ছে, যেই হামলায় তাঁর বাবা নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছেন।

তিন দিন ধরে তেহরানে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন, কোম শহর প্রদর্শন এবং ইরাকের ধর্মীয় স্থান ঘুরে এই শেষকৃত্যানুষ্ঠান পরিচালনা করছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি। এই বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সরকার একদিকে তাদের গভীর ধর্মীয় ভাবাবেগ প্রকাশ করছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সংঘাত সামলে নিজেদের জাতীয় ঐক্য ও শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে চাইছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পুরো অঞ্চল এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়েছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222