নিজস্ব প্রতিবেদক:: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলগুলোর নেতারা আগামীতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
বৈঠকে হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী ও মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী উপস্থিত ছিলেন।

সাতটি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক ও সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামি ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজি আতাউর রহমান।
এছাড়াও বৈঠকে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি, মাওলানা মুসা বিন ইজহারসহ বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
বৈঠকে রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চকরিয়া ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় বহু পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি ও খাদ্যসামগ্রী হারিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।
এ সময় আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক, সামাজিক ও ঈমানী দায়িত্ব। তিনি হেফাজতে ইসলামের জেলা ও উপজেলা শাখাগুলোকে দ্রুত বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
