কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে সালাত আদায় নিয়ে উত্তেজনা, ১৬৩ ধারা জারি

by Masudul Kadir

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক গৌরীপুর জামে মসজিদে (বাঁকড়া মসজিদ) নামাজ আদায় বন্ধ এবং এটি স্থানান্তরের উদ্যোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিমানবন্দরের আশেপাশের বাঁকড়া এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং ১৬৩ ধারা (১৪৪ ধারা) জারি করা করেছে প্রশাসন।

ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া) জানিয়েছে, বিমান চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির যৌথ সম্মতিতে মসজিদটি ভেঙে অন্য কোথাও স্থানান্তরের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

স্থানান্তরের প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে গত শনিবার (১১ জুলাই) থেকেই মসজিদটিতে নামাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ (৮ নম্বর গেট) বন্ধ করে দিয়েছে এবং নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য অস্থায়ী পাস ইস্যু করা স্থগিত করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয়দের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত মসজিদটি প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো, যা ১৯২৪ সালে কলকাতা বিমানবন্দর (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার আগেই সেখানে নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময়ও মসজিদটি অক্ষত রাখা হয়।

তবে এটি নতুন করে নির্মিত বিমানবন্দরের দ্বিতীয় বা ছোট রানওয়ের মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে, উচ্চ-নিরাপত্তা বেষ্টনীর (লেভেল ৩) ভেতরে অবস্থিত, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটারের থেকে অনেক কম।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য—সব কিছুর ঊর্ধ্বে জাতীয় নিরাপত্তা ও যাত্রীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এদিকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ও তৃণমূলের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং আজ শুক্রবার কালো ব্যাজ পরে ‘১ কোটি মুসল্লির জুমার নামাজ’ আদায়ের ডাক দেন।

তবে এই কর্মসূচি ঠেকাতে বাঁকড়া মোড়-সহ সংলগ্ন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে প্রশাসন। সেখানে দুই কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের প্রায় ২৫০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পাশাপাশি যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে গার্ডরেল, জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং দমকলের একটি ইঞ্জিনও। পুলিশের গাড়ি থেকে মাইকে বারবার ঘোষণা করে সাধারণ মানুষকে আইন মেনে চলার আবেদন জানানো হয়।

এই পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন সিদ্দিকুল্লা। সকালে বাকড়া এলাকায় পৌঁছে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে জানান, আপাতত আর কোনও কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন না। তবে বাকড়াঁ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন, দ্য ওয়াল

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222