পাঁচ মূলনীতিতেই মিলবে প্রকৃত মুমিন ও ইবাদতগুজারের মান: দেওবন্দের মুহতামিম

by hsnalmahmud@gmail.com

বিশেষ প্রতিবেদক:: হাদিসে বর্ণিত পাঁচটি মৌলিক নীতি দৈনন্দিন জীবনে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী। তিনি বলেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকা, অল্পে তুষ্ট থাকা, প্রতিবেশীর হক আদায় করা, অন্যের কল্যাণ কামনা করা এবং অতিরিক্ত হাসি থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে একজন মানুষ প্রকৃত মুমিন, মুসলিম ও সর্বোত্তম ইবাদতগুজার হতে পারে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের আগে দেওয়া বিশেষ বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
banner

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করে মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেন, দ্বীনের যেকোনো বিষয় গভীর আগ্রহ নিয়ে জানতে ও আমল করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের দ্বীনি আমলের প্রতি উৎসাহ ও আগ্রহ যাচাই করতে এই পাঁচটি বিষয়ের কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং আবু হুরায়রা (রা.) তা সঙ্গে সঙ্গে সানন্দে গ্রহণ করেন।

বয়ানে হাদিসের পাঁচটি বিষয়ের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে দেওবন্দের মুহতামিম বলেন:

১. সব ধরনের হারাম থেকে বেঁচে থাকা: সমাজে সকল প্রকার লেনদেন, আহার ও কাজকর্মে হারাম বর্জন করতে হবে। যেকোনো ভালো কাজ করা সহজ হলেও নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখা কঠিন। তাই হারাম থেকে বেঁচে থাকাই হলো সবচেয়ে বড় ইবাদত।

২. অল্পে তুষ্টি বা কানাআত: বাহ্যিক ধনসম্পদের চেয়ে অন্তরের ধনাঢ্যতাই আসল। আল্লাহ তাআলা রিজিকে যা বণ্টন করেছেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকলে মানুষ প্রকৃত ধনী হতে পারে। অতি চাহিদা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

৩. প্রতিবেশীর হক আদায়: প্রতিবেশীর প্রতি অনুগ্রহশীল হওয়া ঈমানের অপরিহার্য অংশ। যে ব্যক্তির অন্যায় আচরণ ও কষ্ট দেওয়া থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে কখনোই পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে না।

বয়ানের মিম্বারে বিশ্বখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী ও পাশেই নিচে বসে আছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মাওলানা আব্দুল মালেক। ছবি: সংগৃহীত

৪. অন্যের জন্য নিজের মতো পছন্দ করা: একজন প্রকৃত মুসলিমের পরিচয় হলো, তিনি নিজের জন্য যা পছন্দ করেন, অপরের জন্যও তা-ই কামনা করেন। নিজের কথা বা কাজে যেন অন্য কারো কষ্ট, অসুবিধা বা ক্ষতি না হয়—সেদিকে খেয়াল রাখা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।

৫. অতিরিক্ত হাসি থেকে বিরত থাকা: অতিরিক্ত অট্টহাসি ও অনর্থক গল্প-গুজবের আসর মানুষের অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো অট্টহাসি দেননি; কেবল মুচকি হাসতেন। অট্টহাসি মানুষের শুদ্ধ চিন্তা ও ভাবনার জগতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মানুষের উচিত আল্লাহর জিকির ও কান্নাকাটির মাধ্যমে হৃদয়কে সতেজ রাখা।

দেওবন্দের মুহতামিমের মূল বয়ানের পর উপস্থিত মুসল্লিদের সুবিধার্থে তার সারাংশ বাংলায় অনুবাদ করে উপস্থাপন করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ফকিহ আবদুল মালিক।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও খুতবা প্রদান শেষে আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানীর ইমামতিতে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

বয়ানের তথ্য সংগ্রহে মাহাদুস সাকাফা বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা আশরাফ আলম কাসেমী নদভী।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222