স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিদেশে পলাতক চার আসামিকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং মানব পাচার মামলার আসামি মোল্লা নজরুল ইসলাম রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জবাবটি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় তিনি বলেন, ‘চলতি বছর বিদেশ থেকে হত্যা মামলার দুই আসামি মো. আরিফ সরকার ও মোবারক মন্ডলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশে পলাতক আসামিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ মে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ও ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত মো. আরিফ সরকারকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর ২৭ মে একই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত ও রেড নোটিশভুক্ত মোবারক মন্ডলকে কাতার থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
তিনি বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত এই আসামিকে ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়ার পর ১৬ জুন তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক ‘প্রত্যর্পণ প্রস্তাব’ পাঠানো হয়। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, এ কারণে দেশটি ‘পারস্পরিক সহযোগিতার নীতি’ বা পারস্পরিক সহযোগিতার নিশ্চয়তা চেয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘তাদের অনুরোধ অনুযায়ী গত ৪ আগস্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, মানব পাচার মামলার ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী পলাতক আসামি মোল্লা নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দেশে ফেরাতে গত ১৬ মার্চ কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ‘প্রত্যর্পণ প্রস্তাব’ পাঠানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে ‘প্রত্যর্পণ প্রস্তাব’ পাঠানো হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশে থাকা অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
