আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে ইরানে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সোমবার ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে তাদের ‘নবম দফা’ হামলার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের জবাব এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সাথে হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেগুলোর গতিপথ রুখে দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে থাকা সামরিক কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান। এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কে এক বিবৃতিতে বলেন, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় দুই সৈন্য নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ধারাবাহিক মার্কিন হামলায় ইরান সামরিকভাবে প্রায় সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ওয়াশিংটন এখনও ইরানের সাথে একটি বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক চুক্তির জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ওলটপালট করে দিয়েছে তেহরান। কুয়েতের আলী আল-সালেম ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে মার্কিন আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। কুয়েত ও বাহরাইনের সামরিক বাহিনী তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে থাকা মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারেও ইরান সফল হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ তাবরিজ, বুশেহর ও উরমিয়া শহরের সামরিক স্থাপনাগুলো কেঁপে ওঠে। পৃথক হামলায় আজারবাইজান প্রদেশে অন্তত একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মার্কিন হামলার পরপরই হরমুজ প্রণালীকে ‘অনিরাপদ’ ঘোষণা করে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো তেল বা গ্যাস পরিবাহী জাহাজ নিরাপদ থাকবে না। ওমান উপকূলের কাছে একটি ব্রিটিশ জাহাজে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে বেশ কয়েকটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবরও পাওয়া গেছে। গত ৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করল।
টিএইচএ/
