দিল্লির যন্তর মন্তরের গতকাল আসলে কী ঘটেছিল?

by Abid vs36

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নয়া দিল্লিতে ইউনিয়ন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের মিছিলে ব্যাপক পুলিশি হামলা ও লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে এক বিশাল লংমার্চে অংশ নেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ব্যারিকেড ভেঙে ফেললে ২০০১ সালের পার্লামেন্ট হামলার পর এই প্রথমবার আইনসভা ভবনের প্রধান ফটকগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ভেতরে সংক্রিয় অস্ত্রধারী কমান্ডো মোতায়েন করা হয়। পুলিশ এই পরিস্থিতিকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়ার দাবি করলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে দাঙ্গা সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা নিরস্ত তরুণ ও নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করছেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া হায়দরাবাদের প্রতিনিধি বিজয় ড্যানিয়েল জানান, যাত্রা শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে কোনো উস্কানি ছাড়াই পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি জলিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরিস্থিতির তুলনা করে বলেন, পুলিশ দু দিক থেকেই ঘিরে ধরে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে চড়াও হয়। পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির যন্তর মন্তরের ধর্না থেকে সরিয়ে দেওয়ায় এই আন্দোলন চরম মাত্রা পায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এমনকি যেসব চিকিৎসক আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন এবং যেসব শিক্ষার্থী নারী সহপাঠীদের রক্ষা করতে গিয়েছিলেন, তাদেরও মারধর করে মঞ্চের নিচ থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে মারা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

রাজস্থান থেকে আসা ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শিবম নাভানি ও দিল্লির সুহানা খান নামক আরেক আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, পুলিশের পাশাপাশি বেশ কিছু সাদা পোশাকের ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে তরুণদের পেটাতে থাকে। সুহানা বলেন, পুলিশ তাদের সঙ্গে অপরাধীদের মতো আচরণ করেছে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৩০ জন নারী শিক্ষার্থীকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তারা আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো আইনি সহায়তা পাননি।

মিজোরামের শিক্ষার্থী ডেভিড লাল থংচাংয়া বিক্ষোভকারীদের পাথর ছোঁড়ার পুলিশি অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ এলাকাটি ছিল নিবিড় নজরদারিতে এবং সেখানে কোনো পাথর ছিল না। উপরন্তু শান্তিপূর্ণ মিছিলে লাঠির শিলাবৃষ্টির মতো প্রহার করা হয়েছে এবং নারী শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই বর্বর ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থী সমাজে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222