বশির আহম্মদ মোল্লা (নরসিংদী প্রতিনিধি): বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক নৈশভোজে অংশ নিয়ে রায়পুরা উপজেলার সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের নানামুখী রূপরেখা তুলে ধরেছেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। গতকাল রাতে রাজধানীর গণভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ওমেন্স চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সদস্য জান্নাতুল হক শাপলা। সাক্ষাৎকালে এমপি বকুল মেঘনাবেষ্টিত রায়পুরাকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত ও মেগা প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধ জানান।
সাক্ষাৎকালে এমপি বকুল রায়পুরার সার্বিক টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ২৪টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে মিনি স্টেডিয়াম স্থাপন, মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি মেঘনা নদীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ, চরাঞ্চলকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা, মেঘনা নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু করে কুমিল্লার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, রায়পুরা শ্রীরামপুর রেল গেট থেকে রেললাইনের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে ভৈরবের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং এলাকায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে তোলার স্বার্থে দ্রুত গ্যাস সংযোগের দাবি জানান। নদীভাঙনে ভিটেমাটিহারা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও স্থায়ী তীর সুরক্ষার বিষটিও তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
এছাড়া রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও দ্রুত করতে আধুনিক সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিতকরণ এবং রায়পুরার বিশাল যুবসমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে নতুন কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের জোর দাবি উত্থাপন করেন এমপি বকুল। তিনি গভীর আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেই এসব প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পাবে। সাক্ষাৎ শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদে জনগণের বিভিন্ন পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে এবং চরাঞ্চলের শতবর্ষী বংশীয় সংঘাত নিরসন করে এলাকায় বেশ প্রশংসিত হয়েছেন বকুল। এছাড়া বাজেট বণ্টনে সমতা আনা, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাঁর শূন্য সহনশীলতার অবস্থান স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে বিপুল সাড়া ফেলেছে। ফলে এমপি বকুলকে সরকারের কৃষিপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও রায়পুরাবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক দাবি তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বকুলের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ রায়পুরার সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক মাইলফলক হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
টিএইচএ/
