মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

by Fatih Work

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গ্রেফতার হওয়া পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন
banner

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যান্য সহযোগীদের বিচার এর আগে সামরিক আদালতেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই সব বিচারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এই মামলায় ইতিপূর্বে যারা দণ্ডিত হয়েছেন কিংবা যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে মেজর মোজাফফরের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ রয়েছে কি না, তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল সংশ্লিষ্ট সামরিক আইনে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করবে। একই সাথে এখনই তাকে সিভিল বা দেওয়ানি আইনে নতুন করে একই মামলায় অভিযুক্ত করা আইনসম্মত হবে কি না, সেটিও সামরিক আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারের বিশেষ নির্দেশে গত রোববার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়। এর আগে, গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতার এড়াতে মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ধরে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন এবং পরবর্তীতে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে গোপনে যাতায়াত করতেন। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের সময় মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। তৎকালীন সামরিক ট্রাইব্যুনালে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৮ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়। তবে ওই সময় মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর খালেদ কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অন্যদিকে, পাশ্ববর্তী দেশ থেকে পুশইনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা একজনকেও অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন বা অনুপ্রবেশ করতে দিইনি। আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং সীমান্তবর্তী সচেতন জনগণের সহায়তায় সফলভাবে এখন পর্যন্ত যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, পাশ্ববর্তী দেশে যদি কোনো প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করেন, তবে তাদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক আনুষ্ঠানিকভাবে দিতে হবে। এরপর তাদের জাতীয়তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলেই কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তাছাড়া অন্য কোনো উপায়ে বা জোরপূর্বক কাউকে পুশইনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222