আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের সাথে আন্দোলনকারীদের জরুরি বৈঠকের পরও নিজের অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আন্দোলনরত তরুণ ছাত্র নেতাদের পার্লামেন্টে গিয়ে আইনপ্রণেতাদের (এমপি) সাথে দেখা করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত অথবা স্বয়ং সাংসদরা দিল্লিতে তাঁর চিকিৎসাধীন হাসপাতালে এসে দেখা না করা পর্যন্ত তিনি কোনো অবস্থাতেই অনশন ভাঙবেন না।
সোমবার (২০ জুলাই) সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামীর একটি লিখিত বার্তা শেয়ার করে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। বার্তাটিতে ওয়াংচুক দেশজুড়ে চলমান কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) ব্যানারে প্রতিবাদকারী যুবসমাজের প্রতি তাঁর গভীর একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
হাসপাতালের শয্যা থেকে পাঠানো ওই বার্তায় ওয়াংচুক লেখেন, ‘আজ আমার আমরণ অনশনের ২৩তম দিন। দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত তরুণদের ওপর প্রশাসন যেভাবে অমানবিক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, তা দেখে আমি অনশন চালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হয় আন্দোলনরত তরুণ নেতাদের পার্লামেন্টে এমপিদের সঙ্গে দেখা করতে দিতে হবে, না হয় এমপিদের হাসপাতালে আমার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিতে হবে।’ লাদাখের এই প্রখ্যাত সমাজকর্মী আরও লেখেন, ‘আশা করি সরকার এর আগেই বিতর্কিত শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। সরকারের এত উসকানির সত্ত্বেও দেশের যুবসমাজ যেভাবে মহাত্মা গান্ধীর শান্তির পথ ধরে রেখেছে, তাতে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। আমি সরকার ও পুলিশের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—শিক্ষার্থীদের আজ বা আগামীকালের মধ্যে সংসদে তাদের ক্ষোভ ও দাবিগুলো সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ দিয়ে এই জাতীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হোক।’
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) বিতর্কিত নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ বা সংসদ ভবন অভিমুখে এক বিশাল পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে। এ পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষের জেরে পুরো এলাকা কার্যত এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালেই সমস্ত প্রথাগত নিরাপত্তা বলয় ও ব্যারিকেড ভেঙে হাজার হাজার ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী আচমকা সংসদ ভবনের মূল ফটকের সামনে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন।
উত্তেজনাপূর্ণ এই ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। সংসদের বাইরে আন্দোলনকারীদের নজিরবিহীন জমায়েত ও বেগতিক পরিস্থিতি দেখে একপর্যায়ে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসপিজি) ঘেরাটোপে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে সংসদ ভবন এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ভারতের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রীর এভাবে সংসদ ভবন ছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
টিএইচএ/
