ভারতে নিট মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এ পুলিশি দমনপীড়নকে মোদি সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সাথে সহিংসতা বন্ধ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ও শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘তেলাপোকা’ বা ‘পরজীবী’ বলে তাচ্ছিল্য করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তারা উল্লেখ করেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ভারতে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার নজিরবিহীন প্রশ্নফাঁসের কারণে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। অনিয়মের এই গভীর মানসিক ট্রমা সহ্য করতে না পেরে ইতিমধ্যে ২১ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
শিবির নেতারা আরও দাবি করেন, দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) স্বৈরাচারী মনোভাব ও জবাবদিহিহীনতাকে বিশ্বমঞ্চে উন্মোচন করেছে। প্রতিবেশীদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ও বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
যৌথ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, দিল্লির যন্তর- মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বেপরোয়া হামলায় প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানোয় পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে অনশনস্থল থেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া এবং আন্দোলনের সংগঠক অভিজিৎ দীপকসহ শীর্ষ ছাত্রনেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সাফ জানান, গুলি, লাঠিচার্জ কিংবা দমনপীড়ন চালিয়ে তরুণ সমাজের মেধাভিত্তিক ও ন্যায়সংগত আন্দোলন স্তব্ধ করা যায় না। তারা ভারত সরকারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি, দমনপীড়ন বন্ধ এবং ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
টিএইচএ/
