চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) সহ কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে নগরীতে প্রতীকী মশাল মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। আন্দোলন থেকে আগামী ২ আগস্ট বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর চেরাগীর মোড় থেকে লালদিঘির পাড় পর্যন্ত এই মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের অনুরোধে কর্মসূচিটি সীমিত ও প্রতীকী আকারে পালন করে আয়োজকরা। এর আগে চেরাগীর মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির এ এম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, শ্রমিক দলের বিভাগীয় সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. আব্দুল বাতেন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম এবং বন্দর মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা নূর হোসেন।
সমাবেশে শ্রমিক ও নাগরিক নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি কৌশলগত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল কিংবা অন্য কোনো অবকাঠামো বিদেশি বা বেসরকারি হাতে ছেড়ে দিলে দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব চরম হুমকির মুখে পড়বে। আধুনিকায়নের দোহাই দিয়ে জাতীয় সম্পদ তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে নেতারা জানান, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন করতে হবে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ইজারা প্রক্রিয়ার বিপরীতে সারাদেশে ধারাবাহিক প্রতিবাদ সত্ত্বেও সরকার জনগণের উদ্বেগকে তোয়াক্কা করছে না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নেওয়ার চেষ্টা করলেও জনরোষের মুখে তা থমকে যায়। বর্তমান সরকারও একই ধারায় হেঁটে ইজারা চুক্তি এগিয়ে নিতে একটি ‘সাপোর্ট টিম’ গঠন করেছে, যা সরাসরি জনমতকে অবজ্ঞার শামিল। জনস্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কোনো চুক্তি করা হলে দেশের মানুষ তা ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
টিএইচএ/
