জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ভয়াবহ দিন ছিল ২২ জুলাই। দেশজুড়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো কারফিউ চলাকালে কোটা সংস্কারসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে অনুমোদন দেয় তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, তখন আন্দোলন আর শুধু কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা রূপ নিয়েছিল সরকারবিরোধী বৃহত্তর গণআন্দোলনে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ভাষ্য, আন্দোলন দমনের কৌশল হিসেবে সরকার কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপনকে সামনে আনে। কিন্তু ততদিনে আন্দোলনের মূল দাবি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রিফাত রশিদ বলেন, তখন কোটা সংস্কার আমাদের প্রধান দাবি ছিল না। তখন আমাদের দাবি ছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হবে।
আরেকজন সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, গুলির বিচার পেতেই আমরা আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলাম।
২২ জুলাই আরও ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য সামনে আসে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে ১৭ থেকে ২২ জুলাই এই ছয় দিনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮৭ জনে।
এদিকে আন্দোলন দমনে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকে। ১৭ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির-তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বিপুল ধড়পাকড় আর গুলির মুখেও ঢাকার কয়েকটি স্পট দখলে রাখে ছাত্র-জনতা। যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সমন্বয় করেন ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতারা। ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা জানান তারা।
ইসলামি ছাত্র শিবিরের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, যেখানে যেই প্রতিষ্ঠান আছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে শিবিরের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিদের রিজন ভাগ করে দিয়েছিলাম। যেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একোমোডেট এবং মবিলাইজ করে আন্দোলনে নিয়ে আসা যায়।
সময়ে রাজধানীর রামপুরা-বাড্ডা এলাকাও আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়। সেখানে ছাত্র-জনতার সমন্বয়ের বিষয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, আমরা ২২ জুলাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমাদের নেতাকর্মীরা যে যেখানেই থাকুক। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চারটি স্পটে ভাগ হয়ে আন্দোলন করবে। বাসা রামপুরা হওয়ায় বেশিরভাগ সময়ে আমি পল্টন এবং রামপুরায় অবস্থান করেছি।
২২ জুলাই যাত্রাবাড়ী পরিদর্শনে যান পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেই সময়ের ডিএমপি কমশিনার হাবিবুর রহমান। আন্দোলনে পুলিশ হত্যার জন্য টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহ স্মৃতি বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার। মধ্য জুলাই থেকে প্রতিদিনই রক্ত ঝরেছে যাত্রাবাড়ী এলাকায়। বীরদর্পে লড়াই করে গেছে সেখানকার ছাত্র-জনতা।
