৩৬নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে দল গোছানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় নেমেছে বিএনপি। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে এবং রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এই সাংগঠনিক রদবদল চালানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন, তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত এই তোড়জোড়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা, শৃঙ্খলা রক্ষা, তৃণমূল পর্যায়কে সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর কঠোর নির্দেশনা দেন। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশন শেষ হলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমও সমানতালে চলমান রয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল গোছানোর কাজ চলছে। অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, সাংগঠনিক গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।
দলীয় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যেকোনো সময় এসব সংগঠনের ‘সুপার ফাইভ’ বা আংশিক কমিটি ঘোষণা হতে পারে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, মহিলা দল এবং মৎস্যজীবী দলও নতুন আংশিক কমিটির অপেক্ষায় রয়েছে, যা কাউন্সিলের আগেই পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ছাত্রদলে মেধা ও তরুণদের এবং যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলে রাজপথের ত্যাগী ও মামলা-হামলার শিকার নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের বেশির ভাগ এবং ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিগত দিনে যারা রাজপথে নিষ্ক্রিয় ছিলেন বা সুযোগসন্ধানী ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের কোনোভাবেই গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হবে না বলে হাইকমান্ড থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
টিএইচএ/
