৩৬নিউজ ডেস্ক: নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা ব্যবসা পরিচালনায় সাধারণ মানুষকে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে উল্লেখ করে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি এবং তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির আল্লামা মামুনুল হক। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের চাঁদা না দিয়ে শুধু সরকার নির্ধারিত কর পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, দখলদারিত্ব, মাদক এবং মদের বার উচ্ছেদে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে এই এলাকাকে একটি নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তিময় আদর্শ নগরীতে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিকেএমের আমির বলেন, দরিদ্র, এতিম ও পিতৃহারা কিশোরদের অপরাধচক্র বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে। এসব কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে সমাজের সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে মাদককে সব অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পসহ অন্যান্য মাদকপ্রবণ এলাকায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা জানান তিনি। লালমাটিয়া এলাকায় মদের বার পরিচালনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
শিক্ষাব্যবস্থা ও নাগরিক সমস্যা নিয়ে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধকে দুর্বল করার প্রবণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ জোরদার করা প্রয়োজন। বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নর্দমা পরিষ্কারসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের সমন্বয়ক মাওলানা আশরাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন রাজী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
টিএইচএ/
