মো. রেজওয়ান (রাবি প্রতিনিধি): সাধারণ মানুষের সন্তানদেরই রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার। তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ‘কোটা’ সংস্কৃতি পরিবর্তন করে সাধারণ পরিবারের যোগ্য সন্তানদের নেতৃত্বে আনার পথ সুগম করতে কাজ করছে তার দল।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এনসিপির কেন্দ্রঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় সরোয়ার তুষার বলেন, বর্তমান সংসদের একটি বড় অংশ পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজনীতিতে এসেছে। এই ধরনের সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য সাধারণ মানুষের সরাসরি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। এনসিপির মূল লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে কৃষক, শ্রমিক, ভ্যানচালক কিংবা সাধারণ পরিবারের সন্তানেরাও নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপির অনেক নেতা-কর্মী গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার মাধ্যমে উঠে আসেনি, বরং তারা একটি ঐতিহাসিক গণসংগ্রামের চেতনা ও উত্তরাধিকার নিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম কেন্দ্র উল্লেখ করে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, মুক্তচিন্তা ও রাজনীতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ধরে রাখা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বা ছাত্রদল অতীতের ছাত্রলীগের মতো দমন-পীড়ন বা জোরজুলুমের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ পাবে না। কেউ যদি সেই ধরনের আচরণে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে, তবে তরুণ সমাজ ও ছাত্রজনতা আবারও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট-চেক’-এর চর্চা বৃদ্ধি পেলে রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা অনেক সহজ হবে এবং তা সার্বিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
মতবিনিময় সভায় এনসিপি নেতা মেস্তাফিজসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
টিএইচএ/
