ফিলিস্তিনের গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’কে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে ইসরাইলি নৌবাহিনী। আয়োজকদের দাবি, বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে একটি ইসরাইলি যুদ্ধজাহাজ বহরের প্রধান জাহাজ ‘আলমা’র একেবারে কাছাকাছি চলে আসে এবং এর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ইঞ্জিনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালায়।
আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, নৌবহরটি বর্তমানে গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় ১২১ নটিক্যাল মাইল (২২৫ কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছে এবং গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ফ্লোটিলায় অবস্থান করা আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ওই সময় নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে অধিকারকর্মীরা নিজেদের ফোন সমুদ্রে ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পর ইসরাইলি জাহাজটি সরে গেলে নৌবহর পুনরায় যাত্রা শুরু করে। পরে আলমা জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হয়।
প্রায় ৫০টির বেশি নৌযান নিয়ে গঠিত এই বহরে ৫০০-এর বেশি যাত্রী রয়েছেন। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। আয়োজকরা বলছেন, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ ও ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মানবিক সহায়তা পৌঁছাতেই এই বহর যাত্রা শুরু করে।
এর আগে গ্রীস উপকূলে ফ্লোটিলার ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার জন্য আয়োজকরা ইসরাইলকে দায়ী করেন। তবে তেলআবিব অভিযোগ অস্বীকার করে। শুরু থেকেই ইসরাইল প্রকাশ্যে বলে আসছে, যেকোনো মূল্যে এই বহরকে গাজায় পৌঁছাতে দেবে না।
প্রথম দিকে বহরের নিরাপত্তায় ইতালি ও স্পেনের যুদ্ধজাহাজ ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইতালি ঘোষণা দেয়, তারা আর এই সুরক্ষা দায়িত্ব পালন করবে না। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছালে ইতালীয় যুদ্ধজাহাজ বহরের সঙ্গে থাকবে না।
এনএ/
