গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে হারিয়ে যাচ্ছে কিশোরীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বপ্ন

by hsnalmahmud@gmail.com

বিশেষ প্রতিবেদক

গাজা উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলি টানা বোমাবর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির ফলে অবরুদ্ধ এই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। গৃহহীন ও পরিবারহারা হয়ে তাঁবুর সংকীর্ণ জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কিশোরী ও তরুণীরা। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকা এবং মৌলিক সুবিধার অভাবে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ন্যূনতম ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (প্রাইভেসি), নিরাপত্তা এবং শৈশবের স্বাভাবিক স্বপ্নগুলো।

বিজ্ঞাপন
banner

গাজায় ফিলিস্তিনি সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান যুদ্ধে ৬৮,০০০-এরও বেশি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক তাদের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ৭৫,০০০-এরও বেশি শিশু স্বজন হারিয়ে অনাথ। বিশ্ব স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবায় এদের চিহ্নিত করতে নতুন শব্দ যুক্ত হয়েছে—’WCNSF’ (Wounded Child, No Surviving Family বা আহত শিশু, কোনো জীবিত পরিবার নেই)।

একাকী যুদ্ধ ও বেঁচে থাকার অপরাধবোধ

পরিবার হারিয়ে এই কিশোরীরা কেবল ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা সুরক্ষাই হারাচ্ছে না, বাধ্য হচ্ছে সময়ের আগেই প্রাপ্তবয়স্কদের মতো কঠোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে।

১৩ বছর বয়সী জানা আল-মুতুক:

২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় মা-বাবা, যমজ বোন ও দুই ছোট ভাইসহ পরিবারের ৩৫ জন সদস্যকে হারায় জানা। বর্তমানে নানা-নানির সাথে একটি ছোট্ট তাঁবুতে বসবাস করছে সে। যে বয়সে মায়ের আদরে সকাল শুরু হওয়ার কথা, সেখানে একা হাতে চা বানানো, নিজের কাজ নিজে করা এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে সে।

১৮ বছর বয়সী দিমা জুনিনা: বোমা হামলায় মা-বাবা ও তিন ছোট ভাইকে হারিয়ে একা হয়ে যান দিমা। একটি দরজার নিচে আটকে থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও আজ তিনি বাস্তুচ্যুত ও নিঃসঙ্গ। তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে ব্যক্তিগত কোনো পরিসর নেই, জীবনের সব গোপনীয়তা বিলীন হয়ে গেছে যুদ্ধক্ষেত্রের রুক্ষ বাস্তবে।

মানসিক ট্রমা ও শৈশব হারানোর কান্না

মনোবিজ্ঞানী সেরিন আল-আবসির মতে, গাজার এই একাকী বেঁচে যাওয়া কিশোরীদের মধ্যে এক ধরনের গভীর মানসিক আঘাত বা ‘সারভাইভার্স গিল্ট’ (বেঁচে থাকার অপরাধবোধ) কাজ করছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে যাওয়ার পর নিজেদের একাকী বেঁচে থাকাটাকেই তারা অপরাধ মনে করছে। সংকীর্ণ ও ভিড়ঠাসা আশ্রয়ে তারা শোক প্রকাশের ন্যূনতম ব্যক্তিগত স্থানটুকুও পাচ্ছে না।

স্বপ্নের প্রতি দৃঢ়তা

কঠিন বাস্তবতা ও নিরাপত্তার তীব্র অভাব সত্ত্বেও এই কিশোরীরা তাদের পড়াশোনা শেষ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জানা আল-মুতুক ইতোমধ্যে কোরআনের একটি বড় অংশ মুখস্থ করেছেন এবং দিমা জুনিনা উচ্চ বিদ্যালয় শেষ করে ভবিষ্যতে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন।

গাজার কিশোরী ও শিশুদের দাবি খুব সাধারণ—অন্যান্য দেশের শিশুদের মতো শুধু একটি নিরাপদ বাড়ি, একটি স্কুল এবং ভয়হীন পরিবেশে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222