নিজস্ব প্রতিবেদক :: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের দেওয়া একটি বক্তব্য খণ্ডিতভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আলোচিত প্রসঙ্গে আমি নিজের কোনো মতামত দিইনি। বরং সংশ্লিষ্ট নারীর বক্তব্যই অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু কিছু গণমাধ্যম এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে, যাতে মনে হচ্ছে ওই কথাগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত।
তিনি আরও বলেন, তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নেতৃত্বের নৈতিকতা ও জবাবদিহি। কোনো নেতার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস না করা।
বক্তব্যের একটি অংশ প্রসঙ্গ বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করে তাকে কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বক্তব্য প্রচারের আগে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের গোটাঘাটা মসজিদে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।
সেখানে তিনি বলেন, “এমপি সাহেবের বড় ওয়াইফসহ সবাইকে আমরা ডেকে নিয়ে বসে দেখলাম যে, ওই মেয়েটির আবদার—‘আমি অন্য জায়গায় বিয়ে করবো না, আমি যতদিন বাঁচবো এমপি সাহেবকে সেবা করে যাবো’। মেয়েটির অগাধ দাবির মুখে তার মা-বাবা বাধ্য হয়ে তাদের বাড়িতে বিবাহের ব্যবস্থা করে। কিন্তু কাজটা হয়েছে অসামাজিক, অনৈতিক না। এই অসামাজিক কাজের কারণে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার এমপি পদও বাতিল হয়ে গেছে। অনৈতিক বা অসামাজিক ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমা করে না, কোনো আপস করে না।”
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি যে পর্যায়ে ভুল করছেন, এই পর্যায়ের ব্যক্তির পক্ষে এই ভুল করা সম্ভব না। অন্য একজন ব্যক্তি হলে এটি হয়তো আমরা ভুল মনে করতাম না। মসজিদের একজন ইমাম আর একজন সাধারণ ব্যক্তি কি একই ভুল করলে ভুলের মাত্রা এক থাকে? না, ইমাম সাহেব করার কারণে ভুলের মাত্রাটা বেশি। সে কারণে ওনার দিকে তাকিয়ে বলা হয়েছে। এই ভুলটা অন্যরা করলে হয়তো আমরা মাফ করতাম, কিন্তু আপনার জন্য এটি মাফ করা যায় না। ফলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার এমপি পদও থাকবে না, এমপি পদ বাতিল হবে।’
