জামালপুরের মাদারগঞ্জে রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী। রাজনীতি ছেড়ে জীবনের বাকি সময় পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী কাটাতে চান বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) নিজ ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।
রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী পৌর শহরের বালিজুড়ী পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল আলীম মির্জা কাশেম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশির দশকের দিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের তিনবারের সভাপতি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য এবং সর্বশেষ জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলীয় কোনো কমিটিতে যুক্ত ছিলেন না।
পদত্যাগের বিষয়ে গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ২০১৮ সালে পবিত্র হজ পালনের সময় কাবা শরিফ স্পর্শ করে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজনীতি তার স্বভাব বা জীবনধারার সঙ্গে মানানসই নয়। এতদিন বিভিন্ন কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করা সম্ভব না হলেও এখন সেই সুযোগ এসেছে বিধায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের আমলেই তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন।
গোলাম রব্বানী আরও বলেন, জীবনের সব কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে না পারলেও এখন সুযোগ পাওয়ায় তিনি রাজনীতিকে বিদায় জানিয়েছেন। বাকি জীবন সম্পূর্ণভাবে কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক চলতে চান। এ বিষয়ে কাউকেই অহেতুক বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি যা করেছেন সম্পূর্ণ স্বজ্ঞানে ও নিজের ইচ্ছায় করেছেন।
উল্লেখ্য, ৫৮ বছর বয়সী গোলাম রব্বানী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাশকতা ও বিস্ফোরকসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি হন। পরবর্তীতে আদালতে আত্মসমর্পণ করে তাকে টানা সাড়ে তিন মাস কারাভোগ করতে হয়।
টিএইচএ/
